হজযাত্রীদের অনেকেই ডায়াবেটিসের রোগী। পবিত্র হজ পালনের সময় জলবায়ুর
ভিন্নতা, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, বহু মানুষের সান্নিধ্য, স্বাভাবিকের তুলনায়
অতিরিক্ত পরিশ্রম ও হাঁটার কারণে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। হজযাত্রী
ডায়াবেটিস রোগীদের সতর্কতা বিষয়ে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন ও সৌদি
ডায়াবেটিক অ্যান্ড এন্ডোক্রাইন অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ নির্দেশনা রয়েছে। আসুন,
জেনে নিই এ সম্পর্কে—
করণীয়: হজযাত্রার কয়েক দিন আগেই আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করে রক্তের শর্করার পরিমাপ অনুযায়ী ব্যবস্থাপত্র নিন। দরকার হলে কিডনি, হৃদ্যন্ত্র ইত্যাদি পরীক্ষা করে নিন। চোখ ও পায়ের স্নায়ুর অবস্থাও দেখে নিন। আপনি যদি কোনো গ্রুপ বা দলের সদস্য হয়ে থাকেন, তবে দলের প্রধানকে আপনার ডায়াবেটিস সম্পর্কে জানান। ওখানে গিয়ে আপনার খাওয়াদাওয়া কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে আগেই ধারণা নিন। গুছিয়ে নিন কী কী নিতে হবে। হজ পালনের জন্য আরামদায়ক নরম সোলের ও যথেষ্ট চওড়া জুতা ও সুতি মোজা কিনে নিন। সঙ্গে নিন ব্যবস্থাপত্রের একটি কপি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ইনসুলিন, পর্যাপ্ত সিরিঞ্জ, সুই, তুলা, গ্লুকোমিটার ও স্ট্রিপ, সম্ভব হলে ইনসুলিন ঠান্ডা রাখার জন্য থার্মোফ্লাস্ক, হাত পরিচ্ছন্ন করার স্যানিটাইজার, ডিসপোজেবল মাস্ক, ছাতা ইত্যাদি। কিছু শুকনো খাবারও (যেমন ক্যান্ডি ও বিস্কুট) নিয়ে নিন।
শর্করাস্বল্পতা: খাদ্যাভ্যাসের অনিয়ম ও অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে। হাত-পা কাঁপা, বুক ধড়ফড়, চোখে ঝাপসা দেখা, ঘামতে থাকা এর লক্ষণ। এমন হলে চিনির শরবত, ফলের রস বা জুস, চকলেট বা ক্যান্ডি, খেজুর ইত্যাদি খেয়ে নিন। হজ পালনের সময় শরীরে বেঁধে রাখা ব্যাগে এ ধরনের জিনিস সব সময় বহন করবেন।
পানিশূন্যতা: অতিরিক্ত গরম ও ঘামে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করুন, ঘাম বেশি হলে আরও বেশি। ডায়রিয়া বা বমি হলে খাওয়ার স্যালাইন খাবেন। প্রচণ্ড রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার করবেন।
পায়ে ঘা: ডায়াবেটিসের রোগীর সহজেই পায়ে ঘা দেখা দেয়। কারণ, তাঁদের পায়ের রক্তনালি ও স্নায়ু দুর্বল থাকে। প্রচুর হাঁটাহাঁটি, আঘাত ও গরমের কারণে পায়ে সমস্যা হতে পারে। কখনোই খালি পায়ে হাঁটবেন না। খোলা স্যান্ডেলও নিরাপদ নয়। পা ঢাকা আরামদায়ক জুতা পরুন। একনাগাড়ে দীর্ঘক্ষণ হাঁটবেন না। অন্যরা যেন পা মাড়িয়ে না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রতিদিন রাতে পা পরীক্ষা করে দেখুন, কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলে প্রয়োজনে কারও সাহায্য নিন।
সংক্রমণ: লাখ লাখ মানুষের সংস্পর্শে আসা ও পরিচ্ছন্নতাজনিত সমস্যার কারণে হজ¦ পালনকালে প্রায়ই ফুসফুসে সংক্রমণ, ডায়রিয়া ইত্যাদি হয়ে থাকে। নাক-মুখ ঢেকে রাখতে মাস্ক পরুন। সাবান না পেলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার রাখুন। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন কিছু ফল খান। হজে যাওয়ার আগেই সম্ভব হলে ইনফ্লুয়েঞ্জা, মেনিনজাইটিস ইত্যাদির টিকা নিয়ে নিন।
ইনসুলিন কীভাবে নেবেন?
অভ্যস্ততার বাইরে হাঁটা ও অনিয়মিত খাবারের কারণে ইনসুলিনের মাত্রা আগের মতো বেশি না–ও লাগতে পারে। এ বিষয়ে আগেই চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করে নিন। হজ পালনকালেও গ্লুকোমিটারে শর্করা পরীক্ষা করে কীভাবে মাত্রা কম-বেশি করবেন শিখে নিন। ইনসুলিন ঠান্ডা পাত্রে বা থার্মোফ্লাস্ক বহন করা ভালো। হজের সময় বোতলের চেয়ে পেন ইনসুলিন ডিভাইস সুবিধাজনক। ওষুধ বা ইনসুলিন বাদ দেবেন না, এতে বিপদ হতে পারে।
হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ
http://www.prothom-alo.com
করণীয়: হজযাত্রার কয়েক দিন আগেই আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করে রক্তের শর্করার পরিমাপ অনুযায়ী ব্যবস্থাপত্র নিন। দরকার হলে কিডনি, হৃদ্যন্ত্র ইত্যাদি পরীক্ষা করে নিন। চোখ ও পায়ের স্নায়ুর অবস্থাও দেখে নিন। আপনি যদি কোনো গ্রুপ বা দলের সদস্য হয়ে থাকেন, তবে দলের প্রধানকে আপনার ডায়াবেটিস সম্পর্কে জানান। ওখানে গিয়ে আপনার খাওয়াদাওয়া কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে আগেই ধারণা নিন। গুছিয়ে নিন কী কী নিতে হবে। হজ পালনের জন্য আরামদায়ক নরম সোলের ও যথেষ্ট চওড়া জুতা ও সুতি মোজা কিনে নিন। সঙ্গে নিন ব্যবস্থাপত্রের একটি কপি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ইনসুলিন, পর্যাপ্ত সিরিঞ্জ, সুই, তুলা, গ্লুকোমিটার ও স্ট্রিপ, সম্ভব হলে ইনসুলিন ঠান্ডা রাখার জন্য থার্মোফ্লাস্ক, হাত পরিচ্ছন্ন করার স্যানিটাইজার, ডিসপোজেবল মাস্ক, ছাতা ইত্যাদি। কিছু শুকনো খাবারও (যেমন ক্যান্ডি ও বিস্কুট) নিয়ে নিন।
শর্করাস্বল্পতা: খাদ্যাভ্যাসের অনিয়ম ও অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে। হাত-পা কাঁপা, বুক ধড়ফড়, চোখে ঝাপসা দেখা, ঘামতে থাকা এর লক্ষণ। এমন হলে চিনির শরবত, ফলের রস বা জুস, চকলেট বা ক্যান্ডি, খেজুর ইত্যাদি খেয়ে নিন। হজ পালনের সময় শরীরে বেঁধে রাখা ব্যাগে এ ধরনের জিনিস সব সময় বহন করবেন।
পানিশূন্যতা: অতিরিক্ত গরম ও ঘামে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করুন, ঘাম বেশি হলে আরও বেশি। ডায়রিয়া বা বমি হলে খাওয়ার স্যালাইন খাবেন। প্রচণ্ড রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার করবেন।
পায়ে ঘা: ডায়াবেটিসের রোগীর সহজেই পায়ে ঘা দেখা দেয়। কারণ, তাঁদের পায়ের রক্তনালি ও স্নায়ু দুর্বল থাকে। প্রচুর হাঁটাহাঁটি, আঘাত ও গরমের কারণে পায়ে সমস্যা হতে পারে। কখনোই খালি পায়ে হাঁটবেন না। খোলা স্যান্ডেলও নিরাপদ নয়। পা ঢাকা আরামদায়ক জুতা পরুন। একনাগাড়ে দীর্ঘক্ষণ হাঁটবেন না। অন্যরা যেন পা মাড়িয়ে না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রতিদিন রাতে পা পরীক্ষা করে দেখুন, কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলে প্রয়োজনে কারও সাহায্য নিন।
সংক্রমণ: লাখ লাখ মানুষের সংস্পর্শে আসা ও পরিচ্ছন্নতাজনিত সমস্যার কারণে হজ¦ পালনকালে প্রায়ই ফুসফুসে সংক্রমণ, ডায়রিয়া ইত্যাদি হয়ে থাকে। নাক-মুখ ঢেকে রাখতে মাস্ক পরুন। সাবান না পেলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার রাখুন। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন কিছু ফল খান। হজে যাওয়ার আগেই সম্ভব হলে ইনফ্লুয়েঞ্জা, মেনিনজাইটিস ইত্যাদির টিকা নিয়ে নিন।
ইনসুলিন কীভাবে নেবেন?
অভ্যস্ততার বাইরে হাঁটা ও অনিয়মিত খাবারের কারণে ইনসুলিনের মাত্রা আগের মতো বেশি না–ও লাগতে পারে। এ বিষয়ে আগেই চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করে নিন। হজ পালনকালেও গ্লুকোমিটারে শর্করা পরীক্ষা করে কীভাবে মাত্রা কম-বেশি করবেন শিখে নিন। ইনসুলিন ঠান্ডা পাত্রে বা থার্মোফ্লাস্ক বহন করা ভালো। হজের সময় বোতলের চেয়ে পেন ইনসুলিন ডিভাইস সুবিধাজনক। ওষুধ বা ইনসুলিন বাদ দেবেন না, এতে বিপদ হতে পারে।
হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ
http://www.prothom-alo.com

No comments:
Post a Comment