ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল বাংলাদেশে আসছে। গতকাল ভোরে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস
ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) স্বস্তির এ খবরটি প্রথম জানায় টুইট বার্তায়। এরপর
জানায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে। প্রায় দুই মাসের স্নায়ুক্ষয়ী অপেক্ষার পর
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন স্বস্তির অনুভূতি। স্বস্তি বাংলাদেশ ক্রিকেট
বোর্ডে (বিসিবি), স্বস্তি খেলোয়াড় ও দেশের তাবৎ ক্রিকেট অনুরাগীর মনে।
তবে স্বস্তির সঙ্গে জড়িয়ে থাকছে বিশেষ সতর্কতাও। ইংল্যান্ড দল ঢাকায় পা রাখবে ৩০ সেপ্টেম্বর। তিন ওয়ানডে ও দুই টেস্ট খেলে বাংলাদেশ ছাড়ার আগ পর্যন্ত সজাগ থাকতে হবে সবাইকে। সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার ক্ষণগণনা তাই শুরু হয়ে গেল এখন থেকেই।
গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার পর ইংল্যান্ড সিরিজটা হবে কি না, সেটি নিয়ে আসলেই খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল বিসিবি। কদিন আগে ইংলিশ সংবাদমাধ্যমে যখন ইসিবির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা রেগ ডিকাসনের সঙ্গে কথা বলে জানায়, বাংলাদেশ সফর নিয়ে ইসিবি শঙ্কিত, বাংলাদেশের শঙ্কাটা বেড়ে যায় আরও। এই ডিকাসনই দুই সঙ্গী নিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামসহ সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে যান। তিন সদস্যের এই প্রতিনিধিদলের প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করছিল বাংলাদেশ সফর নিয়ে ইসিবির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচকই হয়েছে। আর তাতে অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে যাওয়ায় খুশি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান, ‘সবাই উৎকণ্ঠায় ছিল। যেদিকেই যাই, সবার একটাই প্রশ্ন—ইংল্যান্ড আসবে? ১৬ কোটি মানুষ এটা নিয়ে যেহেতু চিন্তিত ছিল, নিশ্চয়ই তারা দোয়া করেছে। ১৬ কোটি মানুষের দোয়া বৃথা যেতে পারে না। এ কারণে আমার মনে সাহস ছিল ইংল্যান্ড আসবে। এখনো পর্যন্ত যে পরিস্থিতি, তারা আসবে। সেদিক দিয়ে আমি অত্যন্ত খুশি।’
ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য গত ২০ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ দলের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি। ফিটনেস ট্রেনিংয়ের পর এখন চলছে ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন। তবে ইংল্যান্ড সিরিজটা আদৌ হবে কি না, এমন দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়েই অনুশীলন করতে হয়েছে ক্রিকেটারদের। তাঁদের মাথায় আপাতত সেই দুশ্চিন্তা আর নেই। ইংল্যান্ড দল আসছে জেনে ভীষণ খুশি বাংলাদেশের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। টুইট বার্তায় তিনি জানান, ‘দারুণ একটা খবর শুনে ঘুম ভাঙল। ইংল্যান্ড সিরিজ হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য আনন্দের সময়।’
বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট খেলেছে গত বছর জুলাইয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। প্রায় দেড় বছরের বিরতির পর ইংল্যান্ড সিরিজ দিয়ে আবার টেস্টে ফিরছে বাংলাদেশ। সিরিজটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলেই আশা বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের, ‘অবশ্যই আমরা ইতিবাচক। আমার ধারণা, এটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ হবে, ইনশা আল্লাহ। ধন্যবাদ জানাই ইসিবিকে।’
কাল ভোরেই খবরটি প্রথম জেনেছেন বিসিবি সভাপতি। তাঁর আত্মবিশ্বাস ছিল, ইতিবাচক খবরই পাবেন। এমন আত্মবিশ্বাসের পেছনে কয়েকটি কারণও ছিল। গুলশানে নিজ বাসভবনে সংবাদমাধ্যমের সামনে সেগুলোই তুলে ধরেন নাজমুল, ‘ইংল্যান্ডের টিউবে যখন হামলা হলো (২০০৫ সালে), আমি তখন লন্ডনে। বোমা হামলার পরই সেখানকার সবকিছু আবার স্বাভাবিক। মানুষ ভয়ে ঘরে লুকিয়ে থাকেনি। আগেও যখন হুমকি ছিল (বাংলাদেশে), অস্ট্রেলিয়া না এলেও ইংল্যান্ড কিন্তু দল পাঠিয়েছে। সন্ত্রাসের কাছে মাথা নত করার দেশ নয় ইংল্যান্ড। আমাদের সঙ্গে তাদের সব সময়ই একটা সুসম্পর্ক বিরাজ করছে। এখন পৃথিবীর কোনো দেশই নিরাপদ নয়। যেকোনো জায়গায় এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা আমরা তাদের দিয়েছি, এ রকম বিশ্বের আর কেউই দেয় না।’
বিসিবি সভাপতি জানালেন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়, দর্শক ও সাংবাদিকদের। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতামূলক মনোভাব আশাবাদী করছে নাজমুল হাসানকে, ‘ক্রিকেটে নিরাপত্তার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজে তদারক করেন। গত বিশ্বকাপের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমি নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। এমনটা কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন না। সরকারের কাছ থেকে আমরা যে নিরাপত্তা পাই, অবিশ্বাস্য!’
শুধু ব্যাটে-বলের লড়াই নয়, আরও অনেক কারণেই এবারের ইংল্যান্ড সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ। বিসিবি সভাপতি মনে করেন, দেশের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই সিরিজ, ‘গর্ব করার মতো দেশে আরও অনেক কিছুই আছে। তবে এ মুহূর্তে আমাদের ক্রিকেটই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে সিরিজটা তাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে see more
Info : Prothom-alo
তবে স্বস্তির সঙ্গে জড়িয়ে থাকছে বিশেষ সতর্কতাও। ইংল্যান্ড দল ঢাকায় পা রাখবে ৩০ সেপ্টেম্বর। তিন ওয়ানডে ও দুই টেস্ট খেলে বাংলাদেশ ছাড়ার আগ পর্যন্ত সজাগ থাকতে হবে সবাইকে। সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার ক্ষণগণনা তাই শুরু হয়ে গেল এখন থেকেই।
গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার পর ইংল্যান্ড সিরিজটা হবে কি না, সেটি নিয়ে আসলেই খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল বিসিবি। কদিন আগে ইংলিশ সংবাদমাধ্যমে যখন ইসিবির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা রেগ ডিকাসনের সঙ্গে কথা বলে জানায়, বাংলাদেশ সফর নিয়ে ইসিবি শঙ্কিত, বাংলাদেশের শঙ্কাটা বেড়ে যায় আরও। এই ডিকাসনই দুই সঙ্গী নিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামসহ সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে যান। তিন সদস্যের এই প্রতিনিধিদলের প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করছিল বাংলাদেশ সফর নিয়ে ইসিবির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচকই হয়েছে। আর তাতে অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে যাওয়ায় খুশি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান, ‘সবাই উৎকণ্ঠায় ছিল। যেদিকেই যাই, সবার একটাই প্রশ্ন—ইংল্যান্ড আসবে? ১৬ কোটি মানুষ এটা নিয়ে যেহেতু চিন্তিত ছিল, নিশ্চয়ই তারা দোয়া করেছে। ১৬ কোটি মানুষের দোয়া বৃথা যেতে পারে না। এ কারণে আমার মনে সাহস ছিল ইংল্যান্ড আসবে। এখনো পর্যন্ত যে পরিস্থিতি, তারা আসবে। সেদিক দিয়ে আমি অত্যন্ত খুশি।’
ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য গত ২০ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ দলের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি। ফিটনেস ট্রেনিংয়ের পর এখন চলছে ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন। তবে ইংল্যান্ড সিরিজটা আদৌ হবে কি না, এমন দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়েই অনুশীলন করতে হয়েছে ক্রিকেটারদের। তাঁদের মাথায় আপাতত সেই দুশ্চিন্তা আর নেই। ইংল্যান্ড দল আসছে জেনে ভীষণ খুশি বাংলাদেশের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। টুইট বার্তায় তিনি জানান, ‘দারুণ একটা খবর শুনে ঘুম ভাঙল। ইংল্যান্ড সিরিজ হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য আনন্দের সময়।’
বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট খেলেছে গত বছর জুলাইয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। প্রায় দেড় বছরের বিরতির পর ইংল্যান্ড সিরিজ দিয়ে আবার টেস্টে ফিরছে বাংলাদেশ। সিরিজটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলেই আশা বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের, ‘অবশ্যই আমরা ইতিবাচক। আমার ধারণা, এটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ হবে, ইনশা আল্লাহ। ধন্যবাদ জানাই ইসিবিকে।’
কাল ভোরেই খবরটি প্রথম জেনেছেন বিসিবি সভাপতি। তাঁর আত্মবিশ্বাস ছিল, ইতিবাচক খবরই পাবেন। এমন আত্মবিশ্বাসের পেছনে কয়েকটি কারণও ছিল। গুলশানে নিজ বাসভবনে সংবাদমাধ্যমের সামনে সেগুলোই তুলে ধরেন নাজমুল, ‘ইংল্যান্ডের টিউবে যখন হামলা হলো (২০০৫ সালে), আমি তখন লন্ডনে। বোমা হামলার পরই সেখানকার সবকিছু আবার স্বাভাবিক। মানুষ ভয়ে ঘরে লুকিয়ে থাকেনি। আগেও যখন হুমকি ছিল (বাংলাদেশে), অস্ট্রেলিয়া না এলেও ইংল্যান্ড কিন্তু দল পাঠিয়েছে। সন্ত্রাসের কাছে মাথা নত করার দেশ নয় ইংল্যান্ড। আমাদের সঙ্গে তাদের সব সময়ই একটা সুসম্পর্ক বিরাজ করছে। এখন পৃথিবীর কোনো দেশই নিরাপদ নয়। যেকোনো জায়গায় এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা আমরা তাদের দিয়েছি, এ রকম বিশ্বের আর কেউই দেয় না।’
বিসিবি সভাপতি জানালেন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়, দর্শক ও সাংবাদিকদের। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতামূলক মনোভাব আশাবাদী করছে নাজমুল হাসানকে, ‘ক্রিকেটে নিরাপত্তার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজে তদারক করেন। গত বিশ্বকাপের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমি নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। এমনটা কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন না। সরকারের কাছ থেকে আমরা যে নিরাপত্তা পাই, অবিশ্বাস্য!’
শুধু ব্যাটে-বলের লড়াই নয়, আরও অনেক কারণেই এবারের ইংল্যান্ড সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ। বিসিবি সভাপতি মনে করেন, দেশের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই সিরিজ, ‘গর্ব করার মতো দেশে আরও অনেক কিছুই আছে। তবে এ মুহূর্তে আমাদের ক্রিকেটই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে সিরিজটা তাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে see more
Info : Prothom-alo

No comments:
Post a Comment