Tuesday, August 30, 2016

দক্ষতা নয়, গুরুত্ব পাচ্ছে পরিচয়

প্রচ্ছদ দেখেই বই নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়—তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত পুরোনো এই প্রবাদ নতুন করে ভাবা। অন্তত কর্মী নির্বাচনে নারী-পুরুষের সমতার যে নীতি অনুসরণের কথা তারা বলছে, তাতে যদি তারা আসলেই বিশ্বাসী হয়। গত বৃহস্পতিবার তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘স্পিক উইথ অ্যা গিক’-এর জরিপের প্রতিবেদনে দেখা যায়, তথ্যপ্রযুক্তির কাজের ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারীরাই বেশি যোগ্য। অথচ পুরুষেরা নিয়োগ পাচ্ছেন বেশি।
একদল নিয়োগদাতার সামনে একই চাকরিপ্রার্থীকে দুবার উপস্থাপন করে স্পিক উইথ অ্যা গিক। এতে পাঁচ হাজার চাকরিপ্রার্থী অংশ নেন। প্রথমবার চাকরিপ্রার্থীদের নাম, কাজের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়। নিয়োগ পাওয়া চাকরিপ্রত্যাশীদের ৫ শতাংশ ছিলেন নারী।
আর দ্বিতীয়বার? সবার নাম, অভিজ্ঞতা, শিক্ষা—সব গোপন রেখে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এবার ৫৪ শতাংশ নারীপ্রার্থী কাজের সুযোগ পান।
কাজের সম-অধিকার বা লিঙ্গবৈষম্যহীনতা তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অ্যাপল, ফেসবুক থেকে শুরু করে ইন্টেলের মতো প্রতিষ্ঠান বছর শেষে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে লিঙ্গবৈষম্যের ওপর। আগের বছরগুলোর তুলনায় এখন অবশ্য অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যেমন অ্যাপলের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৩২ শতাংশ নারী কর্মী কাজ করেন, যা গত বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন লিঙ্গবৈষম্য কমিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মী বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কাজ যে খুব একটা হচ্ছে, তা জোর দিয়ে বলা যায় না।
স্পিক উইথ অ্যা গিকের প্রতিবেদন এখন সবাইকে একটি বিষয়ে ভাবিয়ে তুলেছে। আর তা হলো, চাকরির সাক্ষাৎকারে তবে কি দক্ষতার চেয়ে লিঙ্গবৈষম্য বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে? নারীরা যে প্রোগ্রামিং সংকেত লেখায় অদক্ষ নন, তার প্রমাণ তো অহরহ মিলছে। এমন প্রতিবেদন অবশ্য আগেও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে করে অবস্থার খুব একটা যে পরিবর্তন হয়েছে, তা কিন্তু নয় see more 


Info : Prothom-alo

No comments:

Post a Comment