Saturday, July 30, 2016

২০৪০ সালে উৎপাদনের চেয়ে কম্পিউটারে বিদ্যুৎ বেশি লাগবে

মুরের সূত্র নতুন করে লেখার সময় এখন। অন্তত সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (এসআইএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন তাই বলে। ‘ইন্টারন্যাশনাল টেকনোলজি রোডম্যাপ ফর সেমিকন্ডাক্টর ২.০’ (আইটিআরএস) শীর্ষক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে ২০২১ সালের পরে ট্রানজিস্টরের আকার আর ছোট হবে না।
ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কম্পিউটার এখন মুরের সূত্রের চেয়েও মারাত্মক সমস্যা মোকাবিলা করছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বিদ্যুৎ সমস্যা।
এসআইএর গবেষণার সূত্র ধরে দ্য রেজিস্টারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্বের বৃহত্তম কম্পিউটার অবকাঠামোতে এখন বিশ্বের মোট বিদ্যুৎশক্তির বড় অংশ ব্যবহৃত হচ্ছে। আইটিআরএস বলছে, এই গতিপথের একটি নিজস্ব সীমাবদ্ধতা আছে। ২০৪০ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে যত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, কম্পিউটিংয়ে তার চেয়ে বেশি বিদ্যুতের দরকার হবে।
আইটিআরএসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ট্রানজিস্টরের আকার ছোট করাটা আর্থিকভাবে লাভজনক হবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোকে থ্রিডি প্রিন্টিং বা অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।
ট্রানজিস্টর কত কম শক্তিতে চলে, তাই এখন সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য বড় চাহিদা হয়ে উঠেছে এবং চিপে ট্রানজিস্টর বাড়ানোর চাহিদাও বাড়ছে। পণ্যের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে এ ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে।
প্রযুক্তি-বিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে অবশ্য মুরের সূত্রের সমাপ্তি ঘটবে না। ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের মতো প্রযুক্তি চিপের জটিলতা আরও বাড়াবে।
একটি নির্দিষ্ট আকারের ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি) বোর্ডে মোট ট্রানজিস্টরের সংখ্যা ভবিষ্যতে কত হবে, তা নিয়ে গর্ডন আর্ল মুর ১৯৬৫ সালের ১৯ এপ্রিল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তা মুরস ল বা মুরের তত্ত্ব নামে পরিচিতি পায়।
মুরের সূত্র কী
ইলেকট্রনিকস সাময়িকীর ৩৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৯৬৫ সালে তৎকালীন ফেয়ার-চাইল্ড সেমিকন্ডাক্টরের গবেষণা এবং উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক গর্ডন মুরকে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের আগামী দশক নিয়ে পূর্বাভাস দিতে বলা হয়। তখন তিনি লেখেন, ১৯৭৫ সাল নাগাদ এক ইঞ্চির এক-চতুর্থাংশে ৬৫ হাজার ট্রানজিস্টর স্থাপন করা সম্ভব হবে, যা প্রতি দেড় থেকে দুই বছরে দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাবে। তাঁর বক্তব্যের পক্ষে কিছু যুক্তি দেখান তিনি। গর্ডন মুরের সেই গবেষণাপত্র পরবর্তী সময়ে মুরস ল বা মুরের সূত্র হিসেবে পরিচিতি পায়। আবার ১৯৭৫ সালে তিনি বলেন, ১৯৮০ সাল পর্যন্ত প্রতি দুবছরে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট বোর্ডে ট্রানজিস্টরের সংখ্যা দ্বিগুণ হারে বাড়তে থাকবে। তবে ১৯৮০ সালের পর এই হার কমতে থাকবে। আজও তাঁর সেই পূর্বাভাস অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে।
মুরের সূত্র কেন পুরোনো হয় না
আকার বাড়েনি, বেড়েছে ধারণক্ষমতা কম্পিউটারের ভাষা বাইনারি। বিদ্যুতের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয় বাইনারি সংকেত। আর এই সংকেতগুলো তৈরি করে ট্রানজিস্টর নামের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী যন্ত্র। একটি মাইক্রোপ্রসেসরে যত বেশিসংখ্যক ট্রানজিস্টর থাকে, সংকেত তত দ্রুতগতিতে প্রক্রিয়াজাত করা যায়। সুতরাং, নতুন কোনো পদ্ধতি উদ্ভাবন না হওয়া পর্যন্ত ট্রানজিস্টরের সংখ্যা না বাড়িয়ে দ্রুতগতির কম্পিউটার তৈরির উপায় নেই। এদিকে ডেস্কটপ থেকে ল্যাপটপ, তারপর স্মার্টফোন—ট্যাবলেট কম্পিউটার যন্ত্রের আকার ক্রমাগত ছোট হয়ে আসছে। ঢাউস আকারের কম্পিউটারের চল সেই ২৩০০ ট্রানজিস্টরের প্রথম ইনটেল ৪০০৪ মাইক্রোপ্রসেসর থেকেই বিদায় নিয়েছে। এখন সেখানে ৫৫০ কোটি ট্রানজিস্টরের প্রসেসর তৈরি হয়েছে। আকার কিন্তু বাড়েনি, বরং কমছে। আর তাই গর্ডন মুরের সেই ভবিষ্যদ্বাণী এখনো সীমা খুঁজে পায়নি। তথ্যসূত্র: দ্য রেজিস্টার।
http://www.prothom-alo.com

No comments:

Post a Comment