Saturday, October 29, 2016

এই রেকর্ডটা শুধুই মিরাজের

অভিষেক টেস্টে ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েও রেকর্ডটা শুধুই নিজের করে নিতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। এই তালিকায় তাঁর সঙ্গে আছেন বাংলাদেশের আরও ৪ বোলার। তবে ক্যারিয়ারের প্রথম দুই টেস্টেই ৫ উইকেট পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার মিরাজ।
অভিষেকে ৬ উইকেট পাওয়া নাঈমুর রহমান, সোহাগ গাজী, ইলিয়াস সানি ও মঞ্জুরুল ইসলাম কেউই পরের টেস্টে ৫ উইকেট পাননি। গাজী প্রথম টেস্টে ৯ উইকেট নেওয়ার পরেরটিতে নেন ৩ উইকেট। ইলিয়াসও তাই। নাঈমুর রহমান মাত্রই ১ উইকেট। আর মঞ্জুরুল তো উইকেটই পাননি।
অভিষেকেই ৫ উইকেট নেওয়া বাংলাদেশের বাকি দুই বোলারও ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে ৫ উইকেট নিতে পারেননি। মাহমুদউল্লাহ নিজের দ্বিতীয় টেস্টে দুই ইনিংসে পেয়েছিলেন ৩ ও ১ উইকেট। তাইজুল ২ ও ১ উইকেট। এই তালিকায় তাই মিরাজের এখন একক রাজত্ব।
ক্যারিয়ারের প্রথম দুই টেস্টে ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়েছেন এমন বোলার আছেন ২৩ জন। তবে রেকর্ডের একটি অধ্যায়ে মিরাজ একাই জায়গা করে নিয়েছেন, টেস্টে ইতিহাসে তিনিই প্রথম অফ স্পিনার যিনি প্রথম দুই টেস্টেই পেলেন ৫ উইকেট। সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ অফ স্পিনার সনি রামাধিন প্রথম দুই টেস্টে ৫ উইকেট পেলেও সেটি আসে তাঁর দ্বিতীয় টেস্টে। অভিষেক টেস্টে তিনি একবারও ৫ উইকেট পাননি।
প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে মিরাজ গড়েছেন আরও একটি রেকর্ড। ক্যারিয়ারের প্রথম দুই টেস্টে সবচেয়ে বেশি উইকেট পাওয়া বাংলাদেশি বোলার তিনি। ২০ বছর বয়সী অফ স্পিনার এখনো পর্যন্ত নিয়েছেন ১৩ উইকেট। চলমান মিরপুর টেস্টে ইংল্যান্ডের আরেকটি ইনিংস বাকি আছে, উইকেট সংখ্যা নিশ্চয়ই আরও বাড়বে মিরাজের see  more 

Info : Prothom-alo.

জার্সিতে মায়ের নাম নিয়ে আজ মাঠে ধোনিরা

খেলছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। কিন্তু গায়ের জার্সির পেছনে নাম ‘দেবাকি’। একই ভাবে বিরাট কোহলির জার্সির পেছনে লেখা ‘সরোজ’। ব্যাপার কী? বিশাখাপটনমে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সবার জার্সিতে কোনো না কোনোর নারীর নাম!
এই নারীরা কারা জানেন? তাঁরা ধোনি-কোহলিদের মা! আজ সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচে যার যার মায়ের নাম জার্সিতে নিয়ে খেলতে নেমেছেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা।
কিন্তু হঠাৎ জার্সিতে মায়ের নাম কেন? বিশ্বজুড়ে সব মায়েদের সম্মান জানাতে, তাঁদের অবদানের কথা মনে করিয়ে দিতে একটি বিশেষ প্রচারণা চালাচ্ছে ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজ সম্প্রচারকারী টেলিভিশন চ্যানেল স্টার স্পোর্টস। ভারতীয় ক্রিকেটারদের জার্সিতে মায়ের নাম লেখাটা সেই প্রচারণারই অংশ। ধোনি-কোহলিরাও গর্ব নিয়েই এর অংশ হয়েছেন।
এভাবে মায়েদের সম্মান জানাতে পেরে আনন্দিত ভারতের ওয়ানডে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি, ‘আমরা সাধারণত আমাদের পদবিতে বাবার নাম ব্যবহার করি। কিন্তু আমাদের জীবনে মায়েদের ভূমিকা স্মরণ করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি খুবই আবেগময় ব্যাপার। ভালো লাগছে যে আমরা একটি মঞ্চে এক হয়ে করছি। আমি আশা করব গোটা ভারতই এভাবে মায়ের অবদানকে স্মরণ করবে। see more 

Info : Prothom-alo.

Wednesday, October 26, 2016

ঢাকা টেস্টে খেলতে পারবেন সাব্বির?

চট্টগ্রাম টেস্ট শুরু আগেই অসুস্থ ছিলেন সাব্বির রহমান। জ্বর ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা নিয়ে ব্যাটিং করেছেন দুই ইনিংসেই। দ্বিতীয় ইনিংসে অসুস্থতা নিয়ে খেলেছেন বীরত্বপূর্ণ ওই ইনিংস। দলকে প্রায় জিতিয়ে নিয়েই ফিরছিলেন। ঢাকা টেস্টের আগে তাঁর অসুস্থতা স্বাভাবিকভাবেই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ দলে। যদিও দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম সাব্বিরকে নিয়ে ইতিবাচক কথাই শুনিয়েছেন।
চট্টগ্রাম টেস্টের পরপরই পেটে ব্যথা হয়েছিল সাব্বিরের। চট্টগ্রামেই তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। ঢাকায় ফিরে বেশ কিছু পরীক্ষাও করানো হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ে বায়েজিদ ইতিবাচক কথাই শোনালেন, ‘আমরা যা সন্দেহ করেছিলাম, তেমন কোনো সমস্যা নেই। সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। চিকিত্সক ওকে কিছু পরামর্শ দিয়েছে। যেমন: কোন কোন খাবার সে খাবে, কেমন হবে তার খাদ্যাভ্যাস। আজ যেহেতু এন্ডোসকপি করানো হয়েছে, সে অনুশীলনে আসেনি। কাল থেকে সাধারণ অনুশীলনসহ সবই করতে পারবে সাব্বির।’
ঢাকা টেস্টে তাহলে খেলতে পারছেন সাব্বির? এখনই শতভাগ নিশ্চিত না হলেও বায়েজিদ অবশ্য আশাবাদী, ‘এই মুহূর্তে চিকিত্সকদের এতটুকুই পর্যবেক্ষণ। তবে ওর ব্যথার মাত্রা অনেক কমে গেছে। ইনশা আল্লাহ টেস্টের আগে সব ঠিক হয়ে যাবে see more 

Info : Prothom-alo.

দুই নতুনের লক্ষ্য

কদিন আগেও দুজনই ছিলেন চট্টগ্রামে। খেলেছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ। অবশ্য একই হোটেলে থেকেও বাংলাদেশ টেস্ট দলের সঙ্গে তাঁদের যেন বিস্তর দূরত্ব ছিল! দুজন কেউ যে ছিলেন না চট্টগ্রাম টেস্টের স্কোয়াডে। তবে ঢাকা টেস্টের দলে ডাক পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন ও শুভাশিস রায়। কাল দুপুরেই দুজন যোগ দিয়েছেন দলের সঙ্গে।
গত বছর জাতীয় লিগে রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন মোসাদ্দেক। ঘরোয়া ক্রিকেটে ২০১৫ সালটা তাঁকে দুহাত ভরিয়ে দিয়েছে। তিনটি ডাবলসহ সেঞ্চুরি করেছেন ছয়টি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরির মতো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি তাঁরই। এমন উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখে ভাবা হচ্ছিল, টেস্ট দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হতে পারে মোসাদ্দেকের।
যদিও মোসাদ্দেকের অভিষেক হয়েছে টি-টোয়েন্টি দিয়ে, গত জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। গত মাসে আফগানিস্তান সিরিজে ওয়ানডে অভিষেকটাও হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্করণে বাংলাদেশের অনুপস্থিতির কারণেই হয়তো টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রাখা হয়নি তাঁর। তবে এবার মোসাদ্দেকের সুযোগ এসেছে টেস্টের স্বাদ নেওয়ার। সুযোগটা তিনি কাজে লাগাতে প্রস্তুত, ‘আসলে তেমন বড় কোনো লক্ষ্য নেই আমার। লক্ষ্য শুধু নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলা। এটা টেস্ট। আগ থেকে বলতে পারব না ম্যাচ জিতিয়ে দেব বা এমন কিছু করব। চেষ্টা করব যেমন ব্যাটিং করি তেমনই করতে। অনেক সময় ধরে ব্যাটিং করা, ভালো একটা জুটি গড়া বা পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করাই আসলে লক্ষ্য।’
অভিষেকেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের চমকে দেওয়ার উদাহরণ কম নেই। সর্বশেষ উদাহরণ মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাব্বির রহমান। চট্টগ্রাম টেস্টে ইংলিশ বোলারদের বিপক্ষে সাব্বিরের লড়াকু ইনিংসটা অনুপ্রাণিতই করছে মোসাদ্দেককে, ‘ব্যাটিংয়ের ধরন চিন্তা করলে সাব্বির আর আমার মোটামুটি এক রকমই। এর আগে জাতীয় লিগে ভালো খেলেছি। চতুর্থ দিনে কীভাবে খেলতে হয় ধারণা আছে। সে যদি তুলনামূলকভাবে চার দিনের ম্যাচ কম খেলে এত ভালো খেলতে পারে, তাহলে একাদশে সুযোগ পেলে আমি পারব না কেন?’
ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক দিন ধরেই চেনা মুখ শুভাশিস। ২০০৭ সালের নভেম্বরে অভিষেকের পর খেলে ফেলেছেন ৫১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। নিয়েছেন ১৩৬ উইকেট। গত মাসে মিরাজের সঙ্গে খেলেছেন জাতীয় দলের প্রস্তুতি ম্যাচগুলো। তখনই বোঝা হচ্ছিল নির্বাচকদের নজরে বেশ ভালোভাবেই আছেন ২৭ বছর বয়সী এ পেসার। শুভাশিসও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যেকোনো সময় ডাক পেতে পারেন জাতীয় দলে, ‘প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছি, একটু রোমাঞ্চ তো কাজ করছেই। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করছিলাম। একটা আশা ছিল, যেকোনো সময় ডাক পেতে পারি। লাইন-লেংথ ঠিক রেখে ঘরোয়া ক্রিকেটে সাফল্য পেয়েছি। একাদশে সুযোগ পেলে নিজের শক্তি অনুযায়ী বোলিং করার চেষ্টা করব see more 

Info : .Prothom-alo.

Saturday, October 22, 2016

শুকনো ফলে পুষ্টি বেশি

বহু যুগ আগে থেকেই ফল শুষ্ক করে বা ফলের মধ্যকার জলীয় অংশকে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা ও খাওয়ার প্রচলন আছে। কিশমিশ, খোরমা, শুকনো খেজুর, আমসি, আমসত্ত্ব ইত্যাদি আমাদের দেশে জনপ্রিয়। ইদানীং বাজারে বিদেশি শুকনো ফল যেমন: এপ্রিকট, ক্রানবেরি, ফিগ ইত্যাদিও প্রচুর পাওয়া যাচ্ছে।
সাধারণ ফলকে শুকিয়ে ফেলার পর এর মধ্যকার উপাদানের ঘনত্ব বেড়ে যায় বলে শুকনো ফলে সাধারণ ফলের চেয়ে পুষ্টি বা ক্যালরি বেশি। শুকনো করে ফেলার পরও এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, রিবোফ্ল্যাভিন, থায়ামাইন ইত্যাদি পুরোপুরি সংরক্ষিত থাকে। এ ছাড়া শুকনো ফলে চর্বি, কোলেস্টেরল ও সোডিয়াম বা লবণ থাকে না বললেই চলে। তবে এতে চিনি বা শর্করার পরিমাণ বেশি। আবার অনেক সময় প্রস্তুতপ্রণালিতে খানিকটা চিনি মেশানো হয় বলে এগুলো রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে। কিন্তু বাড়তি শক্তি ও ক্যালরি জোগাতে ড্রাই ফ্রুট বা শুকনো ফলের জুড়ি নেই।
* কিশমিশ, শুকনো খেজুর ও এপ্রিকটে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে এবং রক্তশূন্যতার রোগীদের প্রায়ই এসব ফল খেতে বলা হয়। এ ছাড়া কিশমিশে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাসও অনেক। রক্ত চলাচলে সাহায্য করে এগুলো। রক্তনালিকে সুস্থ রাখে।
* শুকনো ফলে প্রচুর আঁশ বা ফাইবার থাকে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। বিশেষ করে এপ্রিকট ও ফিগ বা শুকনো ডুমুর পরিপাকতন্ত্রের সুস্থতার জন্য ভালো।
* শুকনো ক্রানবেরি প্রস্রাবের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। শুকনো আম বা আমসত্ত্বতে আছে প্রচুর ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই। আরও আছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ত্বকের সুরক্ষা দেয়। কিশমিশে যে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে, তা ত্বককে সতেজ রাখে বলে সৌন্দর্যচর্চায় এর ব্যবহার সুপ্রাচীন।
শুকনো ফলের ভালো দিক হলো, এটি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে খাওয়া যায় ও সহজে বহনযোগ্য, পচনশীল নয়। শুকনো কাচের বয়াম বা জারে সংরক্ষণ করে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন see more 

Info : Prothom-alo

মুশফিকের আউটেই যত আফসোস


দুই দিনে দেড় ইনিংস শেষ। এখনো বাকি তিন দিনের খেলা। সঙ্গে এখন পর্যন্ত দেখা উইকেটের চরিত্রটা যোগ করে নিলে চট্টগ্রাম টেস্টে ফলাফল না হওয়াটাই হবে অস্বাভাবিক। তা কেমন হতে পারে সেই ফলাফল? চট্টগ্রাম কি টেস্ট ক্রিকেটে আরেকটি ঐতিহাসিক দিন দেখাবে বাংলাদেশকে? নাকি অভিজ্ঞতায় যোজন যোজন এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড হাসবে শেষ হাসি!
বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড দুই শিবির থেকেই বলা হচ্ছে, টেস্টে এখন সাম্যাবস্থা বিরাজ করছে। এখান থেকে খেলা মোড় নিতে পারে যেকোনো দিকে। বাংলাদেশ জিতবে, নয়তো ইংল্যান্ড। আর যদি সব অনুমান ভুল প্রমাণ করে ম্যাচ ড্র হয়ে যায়, নিশ্চিতভাবেই কিছু বড় ইনিংস দেখবে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের দর্শক। রেকর্ড জুটি-টুটি হয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
টেস্টের দ্বিতীয় দিন পর্যন্তও ইংল্যান্ডের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে পারাটা আশাবাদী হওয়ার মতো ব্যাপার। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম এতেই পুরোপুরি সন্তুষ্ট থাকতে পারছেন না। দ্বিতীয় দিন শেষে দলের অবস্থানটা আরও ভালো আশা করেছিলেন তিনি। সেটা না হওয়ার দায় মুশফিক নিচ্ছেন নিজের কাঁধেই, ‘আমার উইকেটটা না পড়লে আরও ভালো হতো।’
প্রথম ইনিংসে এখনো ৭২ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। তবে তিনজন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হাতে থাকায় আশা হারাচ্ছেন না মুশফিক, ‘মিরাজ, সাব্বির আর সাকিব তো আছেই। ইনশা আল্লাহ, আশা করি কমপক্ষে ৫০ থেকে ৭০ রানের লিড হবে। তবে কাল (আজ) সকালের সেশনটা টিকে থাকতে হবে।’
তামিম ইকবাল বাংলাদেশকে একটু এগিয়ে রেখেই শুরু করলেন দ্বিতীয় দিন শেষের বিশ্লেষণ, ‘আমি মনে করি, আমরা একটু ভালো অবস্থানে আছি। হাতে ৫টি উইকেট আছে। আমি সমান সম্ভাবনাই দেখি। কাল (আজ) যদি ভালো একটি সেশন পার করতে পারি তাহলে আমরা ভালো অবস্থায় চলে যাব। তবে উইকেটে ব্যাটিং করাটা সহজ নয়।’ একটা জায়গায় তিনিও একমত অধিনায়কের সঙ্গে, ‘মুশফিক আউট না হলে বলতে পারতাম আমরা ভালো একটি দিন কাটিয়েছি।’
তামিমের ভালো লাগবে যদি প্রথম ইনিংসে অন্তত এক শ রান লিড নিতে পারে বাংলাদেশ, ‘১০০ রানের লিড হলেই আমি বলব ভালো। আমাদের হাতে এখনো দু-তিনজন ভালো ব্যাটসম্যান আছে। মিরাজ আছে, সাব্বির আছে, সাকিবও আছে। নির্দিষ্ট করে এক শ রানের লক্ষ্য দেওয়াটা হয়তো ঠিক হলো না। তারা ভালো জুটি গড়ে রানটা যত দূর নিয়ে যেতে পারে ততই ভালো।’
মুশফিকের মতো সকালের সেশনটাকে স্পর্শকাতর মনে করছেন নির্বাচক হাবিবুল বাশারও, ‘বিশেষ করে ইংল্যান্ড নতুন বল নেওয়ার পরের সময়টা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। উইকেটে নতুন বলে ভালো টার্ন, বাউন্স হচ্ছে। পুরোনো বলে সেটা একেবারে হবে না তা নয়, তবে নতুন বলের মতো অত বড় টার্ন হবে না।’ কাল উইকেট আরও একটা কম পড়লে পুরোপুরি তৃপ্ত থাকতেন হাবিবুল। তবে সাকিব-মিরাজ-সাব্বিরের ওপর তাঁর আস্থা আছে। লিডটা ৫০-এর ওপরে থাকলে নাকি এই টেস্ট জিতেও যেতে পারে বাংলাদেশ!
প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন এখনই অত বড় স্বপ্ন দেখেন না। তবে মুশফিকের মতো তিনিও ৫০-৭০ রানের লিডকে আশাবাদী হওয়ার মতো মনে করছেন, ‘তৃতীয় দিনে আমাদের প্রথম লক্ষ্য হবে ওদের সঙ্গে রানের ব্যবধান কমিয়ে আনা। এরপর লিডের ভাবনা। আমি মনে করি সেটা ৫০ থেকে ৭০ রান হলেই ভালো লড়াই করা যাবে। সে জন্য বাকি ব্যাটসম্যানদের ভালো জুটি গড়তে হবে।’ শেষ বেলায় মুশফিকের আউট নিয়ে আফসোস আছে মিনহাজুলেরও, ‘প্রতিটা বিরতির আগেই আমরা উইকেট হারিয়েছি। নইলে অবস্থান আরও ভালো থাকত। শেষ দিকে মুশফিকের আউটটা না হলেই হতো...।’
দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে ইংল্যান্ডের প্রতিনিধি হয়ে আসেন গ্যারেথ ব্যাটি। চট্টগ্রাম টেস্টে তিনিও এখন পর্যন্ত দেখছেন ‘কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান’ অবস্থা। ‘টেস্টের এখন যা অবস্থা, আমি মনে করি দুই দলই ভাবতে পারে যে তারা ভালো অবস্থানে আছে। তবে কাল (আজ) সকালে আমরা চেষ্টা করব বাংলাদেশ যেন খুব বেশি দূরে যেতে না পারে’—বলেছেন ইংলিশ অফ স্পিনার  see more 

Info : Prothom-alo

‘ভেবেছিলাম মোটামুটি একটা অভিষেক হলেই হয়’

মিরাজ তুমি আমাদের বাঁচাও!’ পরশু অনুশীলনে দারুণ এক ক্যাচ ধরার পর মাহমুদউল্লাহ রসিকতা করেই বলছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজকে। নিছক রসিকতাই, তবে মাহমুদউল্লাহর এই কথায় ছিল দলের নবীনতম সতীর্থকে প্রশংসা আর সামনে এগিয়ে যেতে পিঠ চাপড়ে দেওয়া। মেহেদী কথা রেখেছেন! দুর্বল এক বোলিং আক্রমণ নিয়ে মাঠে নামার দুশ্চিন্তা প্রথম দিনেই দূর করে দিয়েছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশ যে এগিয়ে থাকছে, সেটা তাঁর অসাধারণ বোলিংয়েই।
বাংলাদেশের সপ্তম বোলার হিসেবে অভিষেকেই ৫ উইকেট হলেও মেহেদী একটি জায়গায় থাকছেন সবার ওপরে। টেস্ট অভিষেকে বাংলাদেশের হয়ে ৫ উইকেট পাওয়া সবচেয়ে কম বয়সী বোলারই তিনি। টেস্ট ইতিহাসেই চতুর্থ। এমন স্বপ্নের অভিষেক আসলে মেহেদী নিজেও আশা করেননি, ‌‌‘ভাবিনি আমার অভিষেকটা এমন হবে, ৫ উইকেট পাব। ভেবেছিলাম, মোটামুটি একটা অভিষেক হলেই হয়। ২-৩টি উইকেট কিংবা ব্যাটে ৩০ রান। টিম ম্যানেজমেন্টও আমার কাছে ৫-৬ উইকেট আশা করেনি। তারা চেয়েছে, অভিষেকে যেন আমি শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করি আর ভালো জায়গায় বোলিং করি।'
উইকেটের চরিত্র বুঝে ওভারের পর ওভার বোলিং করা, মারাত্মক সব বাঁকে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের বোকা বানানো—মেহেদী এমনই সপ্রতিভ, বোঝার উপায় নেই যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো আজ বোলিং করছেন। ৩৩ ওভার বোলিং করে ৬ মেডেন। রান দিয়েছেন ৬৪। ইকোনমি ১.৯৩! উইকেটসংখ্যা? আগেই বলা হয়েছে।
মেহেদী আজ সংবাদ সম্মেলনে নিজের সাফল্যের গল্প বলতে গিয়ে কৃতজ্ঞতা জানালেন দুজনকে—আবদুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ দলে ব্রাত্য হয়ে পড়া বাঁহাতি স্পিনার আর সোহেল ইসলাম, বাংলাদেশ যুব দলের সহকারী কোচ, ‘যখন জাতীয় লিগ খেলেছি, খুলনা বিভাগের অধিনায়ক রাজ ভাই (রাজ্জাক) আমাকে সব সময়ই নানা নির্দেশনা দিয়েছেন। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পরও তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি একটা কথাই বলেছেন, চার দিনের ক্রিকেটে যা করেছিস, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সেটি করবি। ওখানে টানা ৩০-৪০ ওভার এবং জায়গায় বোলিং করতে হবে। জায়গায় যদি বোলিং করিস, তোকে কেউ খেলতে পারবে না। সোহেল স্যারও আমাকে একই নির্দেশনা দিয়েছেন।’
সোহেলকে যে একরকম নিজের শিক্ষাগুরু মানেন, সেটিও জানালেন, ‘সোহেল স্যার আমাকে অনূর্ধ্ব-১৫ থেকেই এখনো পর্যন্ত নানা নির্দেশনা দিচ্ছেন। কীভাবে উন্নতি করা যায়, এ নিয়ে সব সময় তাঁর সঙ্গে আমার আলোচনা হয়। আমার যেমন ভালো লাগছে, তাঁরও নিশ্চয়ই তেমন।’
দুর্দান্ত এক টার্নে বেন ডাকেটকে বোল্ড করে শুরু; জনি বেয়ারস্টোকে দিয়ে ৫ উইকেট পূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি উইকেটই মূল্যবান। তবে মেহেদীর কাছে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে জনি বেয়ারস্টোর উইকেটটিই, ‘সেরা উইকেট বলব ওই আউটটা...যেটাই পঞ্চম উইকেট হলো (বেয়ারস্টো)। বল পড়ে সোজা গেছে। আমিও বুঝিনি, সে–ও বোঝেনি!’
মেহেদীর সামনে বড় এক অর্জনের হাতছানি। ৭৪ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অভিষেকে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ে সবার ওপরে আছেন সোহাগ গাজী। তাঁকে ছুঁতে ১টি, ছাড়িয়ে যেতে ২ উইকেট লাগবে মেহেদীর। তবে রেকর্ডের চেয়েও নিশ্চয়ই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ইংল্যান্ডের বাকি তিন উইকেট যত দ্রুত সম্ভব তুলে নেওয়া। রেকর্ড, সে তো এমনই আসবে-যাবে see more 

Info : Prothom-alo