কাউকেই এবার অখুশি রাখবে
না বিপিএল। জাতীয় দলের বিদেশি কোচিং স্টাফ ছাড়া বিসিবির অধীনে থাকা কোচরা
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে কাজ তো করতে পারবেনই, দরজা খোলা থাকছে
নির্বাচকদের জন্যও। তাঁরাও চাইলে সম্পৃক্ত হতে পারবেন বিপিএল
ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে।
বিপিএলে নির্বাচকেরা আগেও ছিলেন। তবে স্বার্থের সংঘাত
এড়াতে গত বিপিএলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে দেওয়া হয়নি
তাঁদের। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল সেই অবস্থান থেকে ফিরে গেছে পুরোনো
অবস্থানে। নির্বাচকেরা বিপিএলে থাকলে স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা নেই বলেই
তাঁদের নতুন ধারণা। অবশ্য যেখানে বোর্ড পরিচালকেরাই সম্পৃক্ত বিভিন্ন
ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে, অন্যদের তখন বাধা দেওয়ার উপায় থাকে না। কাল এক সংবাদ
সম্মেলনে কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক জানালেন,
‘ফ্র্যাঞ্চাইজিদের অনুরোধে এটা করা হয়েছে। তা ছাড়া নির্বাচকেরা খেলা
চলাকালে ড্রেসিংরুমে থাকবেন না। তাঁরা শুধু টেকনিক্যাল বিষয়ে সাহায্য
করবেন।’
আগামীকাল বিকেলে অনুষ্ঠেয় প্লেয়ারস ড্রাফট এবং
টুর্নামেন্টের নিয়ম-কানুন সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়েছে। ড্রাফটের জন্য ১৬৮
জন বিদেশি খেলোয়াড়ের তালিকা দেওয়া হয়েছে। ‘এ’ শ্রেণির বিদেশিদের মূল্য ৭০
হাজার ডলার, ‘বি’ শ্রেণির ৫০ হাজার, ‘সি’ শ্রেণির ৪০ হাজার ও ‘ডি’ শ্রেণির
বিদেশিদের মূল্য ৩০ হাজার ডলার। এর বাইরে ৩৯ জন বিদেশি এরই মধ্যে বিভিন্ন
দলে খেলা নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ক্রিস গেইল চিটাগং
ভাইকিংসের হয়ে ৩-৪টি ম্যাচ খেলবেন। শোয়েব মালিককেও নিশ্চিত করেছে দলটি।
ঢাকা ডাইনামাইটস নিশ্চিত করেছে কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে,
আন্দ্রে রাসেল, ডোয়াইন ব্রাভো, এভিন লুইস ও রবি বোপারাকে। শহীদ আফ্রিদি
খেলবেন রংপুরে, ড্যারেন স্যামি রাজশাহীতে।
বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে শুধু ইংল্যান্ডেরই আছেন ৩৬ জন।
বাংলাদেশ সফর নিয়ে কিছুদিন আগেও উদ্বিগ্ন থাকা দেশটির এত খেলোয়াড়ের বিপিএলে
নাম লেখানোটা বেশ আশা-জাগানিয়া। গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিবও সেটি
বলরেন, ‘শুধু ইংলান্ডেরই নয়, সব দেশ থেকেই বিপিএলে খেলোয়াড় আসছে। এটা
প্রমাণ করে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ। বিদেশি খেলোয়াড়, কোচ
সবার নিরাপত্তার কথাই আমরা বিবেচনা করছি। বিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো মিলেই
এটা দেখবে।’
প্লেয়ারস ড্রাফট থেকে প্রত্যেক ফ্র্যাঞ্চাইজিকেই কমপক্ষে
১০ জন স্থানীয় ও ৩ জন বিদেশি খেলোয়াড় নিতে হবে। প্রতি ম্যাচে বিদেশি খেলানো
যাবে তিন থেকে চারজন। এ ছাড়া স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে গতবারের দল থেকে
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ধরে রাখছে দুজন করে। ঢাকা ডাইনামাইটস রেখেছে মোসাদ্দেক
হোসেন আর নাসির হোসেনকে, চিটাগং ভাইকিংসে আছেন তাসকিন আহমেদ ও এনামুল হক,
রংপুরে মোহাম্মদ মিঠুন ও আরাফাত সানি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসে ইমরুল কায়েস ও
লিটন কুমার দাস এবং বরিশাল বুলসে আল আমিন হোসেন ও তাইজুল ইসলাম।
বিপিএলের শীর্ষ সাত খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর
রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাব্বির রহমান ও
সৌম্য সরকারের মূল্য জানা গিয়েছিল আগেই। কিন্তু তাঁদের শ্রেণিটা ‘আইকন’
নাকি ‘এ প্লাস’, সেটা একটা প্রশ্ন। আগে বলা হয়েছিল, এবার ‘আইকন’ থাকবে না,
সর্বোচ্চ শ্রেণি ‘এ প্লাস’। কিন্তু বিপিএল টেকনিক্যাল কমিটির ২২
সেপ্টেম্বরের সভার পর সব ফ্র্যাঞ্চাইজির পাঠানো চিঠিতে শীর্ষ সাত
ক্রিকেটারকে রাখা হয় ‘আইকন’ শ্রেণিতে। কাল সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল হায়দার
মল্লিক আবার বললেন, ‘আইকন’ নয়, ‘এ প্লাস’ই সর্বোচ্চ শ্রেণি।
‘এ প্লাস’দের মধ্যে সাকিবের মূল্য কমপক্ষে ৫৫ লাখ টাকা।
মুশফিক, তামিম, মাহমুদউল্লাহ ও মাশরাফির ৫০ লাখ এবং সাব্বির ও সৌম্যর ৪০
লাখ। খেলোয়াড়েরা চাইলে দর-কষাকষি করে ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছ থেকে বেশি দামও
নিতে পারেন। ‘সাকিব নিশ্চয়ই শুধু ৫৫ লাখ টাকায় যায়নি। তেমনি তামিমও নিশ্চয়ই
চিটাগং ভাইকিংস থেকে ৫০ লাখের বেশি নিচ্ছে। এটা নির্ভর করছে খেলোয়াড় এবং
ফ্র্যাঞ্চাইজির আলোচনার ওপর’—বলেছেন মল্লিক। তবে দেশি-বিদেশি সব খেলোয়াড়ের
ক্ষেত্রেই বিসিবি শুধু ভিত্তিমূল্যের দায়িত্ব নেবে, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর
কাছ থেকে প্রতিশ্রুত বাড়তি টাকার নয়।
সাত ‘এ প্লাস’ ও পুরোনো ১০ ক্রিকেটার বাদ দিয়ে প্লেয়ারস
ড্রাফটে উঠবেন প্রায় দেড় শ স্থানীয় ক্রিকেটার। ৪ নভেম্বর থেকে শুরু বিপিএলে
ম্যাচ হবে মোট ৪৬টি। খেলা হবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে see more
Info : Prothom-alo



















