Tuesday, August 23, 2016

নেইমারই ব্রাজিলের নেতা, অধিনায়ক সে যিনিই হোন

ব্রাজিলের গত দুটি বড় অর্জন তাঁর হাত ধরেই। ফিফা কনফেডারেশনস কাপের ট্রফির পর অলিম্পিক ফুটবলের সোনাও জিতিয়েছেন নেইমার। পরেরটি তো সরাসরি অধিনায়কের ভূমিকায়, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে। কিন্তু রাগেই হোক কিংবা অভিমানে, অধিনায়কের বাহুবন্ধনী ফিরিয়ে দিয়েছেন বার্সেলোনা তারকা। ব্রাজিলের নতুন কোচ তিতে নেইমারের সিদ্ধান্তকে স্বাগতই জানাচ্ছেন। তবে এও বুঝিয়ে দিয়েছেন, ব্রাজিলের নতুন অধিনায়ক যিনিই হন, নেইমারই হবেন দলের নেতা।

গতকাল কোচ হিসেবে প্রথম দল ঘোষণা করেছেন তিতে। আর কদিন পরেই বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ। সংবাদ সম্মেলনে তিতে বলেছেন, ‘(অলিম্পিক জেতার পর) ও বলেছে, আমি আর অধিনায়ক থাকতে চাই না। আমি বলেছি, আগে বাড়িতে ফিরে গিয়ে এই মেডেলটা উদ্‌যাপন করো। অধিনায়কের ব্যাপারটা নিয়ে পরেও ভাবা যাবে। কেন? কারণ, নেতা হওয়ার

নেইমারকে অধিনায়ক না রাখলে সেটা উভয়ের জন্যই ভালো হবে বলে মনে করেন অনেকে। নেইমারও চাপমুক্ত হয়ে খেলতে পারবেন। আবার নেইমার বড্ড আবেগপ্রবণ। ব্রাজিল সমর্থকদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটায় আছে টানাপোড়েন। অধিনায়কদের কিছু ক্ষেত্রে একটু কূটনৈতিক হওয়াই ভালো।

সরাসরি না বলেও তিতে ঠিক এই জায়গাতেই দলের মুখপাত্র হিসেবে আরেকজনকে চাইছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘অধিনায়কের আরেকটি দিক হলো আপনি আপনার ভাবনা কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন। অধিনায়ককে সব সময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। নেইমারের এর সব গুণই আছে। তবে যেহেতু একজন নেতার অনেকগুলো বৈচিত্র্যময় দিক দরকার, তাই এই কাজটা অন্য কেউ করতে পারে।’

আগামী ১ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচ আছে ব্রাজিলের। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পরের ম্যাচ দুটি পর্যন্ত নেইমারকে ছুটি দিয়েছে বার্সেলোনা see more
বিষয়টি অনেক দিক দিয়ে নির্ভর করে: এটার একটা কৌশলগত দিক আছে। একটা কৌশলগত নেতৃত্ব। আর ও আমাদের কৌশলগত নেতা।’




Info : Prothom-alo

ব্রাজিল দলে পাঁচ নতুন মুখ

নিজের ঘোষিত প্রথম দলেই পাঁচটি নতুন মুখ উপহার দিলেন ব্রাজিল কোচ তিতে। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে খেলা ব্রাজিল তারকাদের ওপর এবার বেশ ধকল গেছে। সেই চোটের ধাক্কা এখনো পুরো সামলে উঠতে পারেনি বলেই তিতে তাঁর দল রাখলেন এই পাঁচ নতুন মুখকে।

সামনেই বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিলের ম্যাচ আছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের বিপক্ষে খেলবে তারা। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া। এই দুই ম্যাচের জন্য ২৩ জনের দল ঘোষণা করেছেন তিতে। গ্যাব্রিয়েল জেসুস, তাইসন, রাফায়েল করিওকা, ফ্যাগনারের পাশাপাশি রাখা হয়েছে গোলরক্ষক ওয়েভারটনকে। এঁরা কেউই এখনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি।

ব্রাজিলের রিও অলিম্পিকজয়ী দলের সাত খেলোয়াড় জায়গা পেয়েছেন এই দলে। এর মধ্যে গোলকিপার ওয়েভারটন ফাইনালে জার্মানির পঞ্চম শটটি ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন। সেই পুরস্কারই হয়তো পেলেন। যদিও প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে একাদশে নাও থাকতে পারেন তিনি।

এই দুই ম্যাচ পর্যন্ত বার্সেলোনা ছুটি দিয়েছে নেইমারকে। ফলে ব্রাজিল থেকে উড়ে এসে ইউরোপে ক্লাব ফুটবলে খেলে আবারও ব্রাজিল ফিরে যাওয়ার ধকল সহ্য করতে হচ্ছে না নেইমারকে।

ব্রাজিল দল:

গোলরক্ষক: আলিসন বেকার, মার্সেলো গ্রোহে, ওয়েভারটন।
ডিফেন্ডার: জিল, মারকুইনহস, মিরান্দা, রদ্রিগো, দানি আলভেস, ফ্যাগনার, ফিলিপে লুইস, মার্সেলো।
মিডফিল্ডার: কাসেমিরো, গুইলিয়ানো, লুকাস লিমা, পাওলিনহো, ফিলিপে কৌতিনহো, রাফায়েল কারিওকা, রেনাতো অগুসেতা, উইলিয়ান see more 



Info : prothom-alo

Monday, August 22, 2016

কিডনির সমস্যায় সব ফল খেতে মানা?

ডাক্তার বলেছেন, কিডনিতে সামান্য সমস্যা আছে। ক্রিয়েটিনিন নাকি একটু বেশি। আর প্রস্রাবেও আমিষ যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের এমন একটা পর্যায় আসেই। ব্যস, অমনি নানান খাবার-দাবারে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়ে গেল। ডাল ও মাংস নিষেধ, এমনকি খেতে মানা সব ধরনের ফলমূলও। পানিও মেপে খেতে হবে। কিন্তু আসলেই কি তাই?
* ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ ঠেকাতে প্রথমত চাই রক্তে শর্করা ও রক্তচাপের সুনিয়ন্ত্রণ। এটা না করতে পারলে কেবল খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে কিডনি ভালো রাখা যাবে না।
* যেসব কিডনি রোগীর শরীরে পানি আসে বা ফুলে যায়, তাদের ক্ষেত্রে দৈনিক পানির পরিমাণ চিকিৎসক মেপে দিতে পারেন। নয়তো পানি নিয়ে ভাবনার কিছু নেই। তবে সেই সঙ্গে কমাতে হবে সোডিয়াম বা রান্নার লবণের পরিমাণও। এটি রক্তচাপ যেমন বাড়ায়, তেমনি পানি জমতেও সাহায্য করে।
* অসুস্থ কিডনি অনেক সময় রক্ত থেকে পটাশিয়াম নিষ্কাশন ঠিকমতো করতে পারে না। এতে রক্তে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়। মাঝেমধ্যে রক্তে ইলেকট্রোলাইট পরীক্ষা করা হলে বিষয়টা ধরা পড়ে। যাদের এই প্রবণতা আছে তারা উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত ফলমূল এড়িয়ে চলাই ভালো। বেশি পটাশিয়াম আছে কলা, কমলা, ডাব, তরমুজ, টমেটো, কিশমিশ, অ্যাভোকেডো ইত্যাদি ফলে। তবে পটাশিয়ামের পরিমাণ কম এমন ফল যেমন আপেল, আঙুর, আনারস, স্ট্রবেরি ইত্যাদি খেতে বাধা নেই।
* কিডনি সমস্যায় অনেক সময় ফসফরাস বা ফসফেটের পরিমাণও যায় বেড়ে। ভুট্টার তৈরি খাবার, কোলা-জাতীয় পানীয়, কিছু বাদামে ফসফেটের পরিমাণ বেশি। তবে চিকিৎসক চাইলে ফসফেট বাইন্ডার ওষুধের মাধ্যমে ফসফরাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
* কিডনি রোগীদের ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘ডি’র অভাব দেখা দেয়, রক্তস্বল্পতা হয়। তাই ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
ডা. মৌসুমী মরিয়ম সুলতানা
মেডিসিন ও কিডনি বিশেষজ্ঞ, ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল, মিরপুর, ঢাকা
স্বাস্থ্যবটিকা ® ব্রোন স্মিথ
বোধশক্তি কমে কেন?
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্নায়ুকোষের আকৃতি ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। তাই মধ্য ও শেষ বয়সে মনের সক্রিয়তাও কমে। মধ্যবয়সের শুরুতে মস্তিষ্ক তুলনামূলক কম পরিমাণে নিউরোট্রান্সমিটার তৈরি করে। এটা স্মৃতিশক্তি ও মেজাজের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
‘স্বাস্থ্যবটিকা’র লক্ষ্য রোগনির্ণয় গোছের কিছু নয়
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: দাঁত কিড়মিড় করা কি কৃমি সংক্রমণের লক্ষণ?
উত্তর: দাঁতে দাঁত ঘষা বা দাঁত কিড়মিড় করে শব্দ করা কৃমি সংক্রমণের কোনো লক্ষণ নয়। বরং এগুলো শিশুদের বদভ্যাস, যা ধীরে ধীরে দূর করা সম্ভব।
ডা. আবু সাঈদ
শিশু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ see more 


Info : prothom-alo

বিশ্বের সবচেয়ে পাতলা ল্যাপটপ উদ্বোধন

বাংলাদেশের বাজার লক্ষ্য করে ১০ দশমিক ৪ মিলিমিটার পুরু ল্যাপটপ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে হিউলেট প্যাকার্ড বা এইচপি। তাদের দাবি, ১৩ দশমিক ৩ ইঞ্চি মাপের এইচপি স্পেক্টরই বিশ্বের সবচেয়ে পাতলা ল্যাপটপ। ইতিমধ্যে এটি দেশের বাজারে চলে এসেছে। এর দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। রাজধানীর একটি হোটেলে আজ সোমবার ল্যাপটপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে পাতলা ল্যাপটপটি ছাড়াও আরও চারটি ল্যাপটপ অবমুক্ত করে এইচপি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এইচপি এশিয়া ইমার্জিং কান্ট্রিজের নোটবুক ক্যাটাগরি ম্যানেজার সামান্তা গৌ, ইমরুল হোসাইন ভূঁইয়াসহ দেশের এইচপির অনুমোদিত পরিবেশকেরা।এইচপির পাতলা ল্যাপটপ স্পেক্টরের কাঠামো অ্যালুমিনিয়ামের। এর তলদেশ কার্বন ফাইবারের তৈরি হওয়ায় এটি খুব হালকা। ওজন মাত্র ১ দশমিক ১১ কিলোগ্রাম। এতে আছে ষষ্ঠ প্রজন্মের ইন্টেল কোর আই ৫ ও আই ৬ প্রসেসর, ৫১২ গিগাবাইট গতির পিসিআই এসএসডি এবং ৮ জিবি র‍্যাম। এর হাইব্রিড ব্যাটারি সর্বোচ্চ ৯ ঘণ্টা ব্যাকআপ দেবে।
অনুষ্ঠানে এইচপি স্পেক্টর ছাড়াও এইচপি এনভি, এইচপি প্যাভিলিয়ন ও এইচডি প্যাভেলিয়ন মডেলের ল্যাপটপও উদ্বোধন করা হয়। ল্যাপটপগুলোর অপারেটিং সিস্টেম জেনুইন উইন্ডোজ ১0 see more 

Info : prothom-alo

শুটিংয়ে সত্যিকারের মিস্টার ও মিসেস

তাঁরা বাস্তব জীবনেই ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস’। আর নতুন নাটকের শুটিংয়েও তাঁদের সম্পর্কটি থাকছে অপরিবর্তিত। অর্থাৎ পর্দায়ও তাঁরা দম্পতি। তাঁদের সম্পর্কের সঙ্গে মিলিয়ে নাটকের নামটিও তাই মিস্টার অ্যান্ড মিসেস রাখা। গত শনিবার ঈদের জন্য তৈরি এই নাটকের সেট ঘুরে দেখা গেল সত্যিকারের দম্পতি তাহসান-মিথিলার অভিনয়। রাজধানীর একটি শুটিংবাড়ির চিলেকোঠার ছাদে দাঁড়ানো দুজন। চলছে ক্যামেরা। প্রথম দফায় ব্যর্থ হয়ে দ্বিতীয় দফায় সেই শট ‘ওকে’ হলো।
তবে শট ‘ওকে’ হতে হতে ততক্ষণে শুটিংবাড়ির নিচের রাস্তায় ভিড় জমে গেছে। ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা তারকা দম্পতি তাহসান-মিথিলাকে একসঙ্গে দেখে থেমে গেছে অনেক উৎসুক মানুষ। হঠাৎ একজন মোটরসাইকেল আরোহী ‘তাহসান, তাহসান...’ বলে চিত্কার করতে করতে শুটিংবাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে চলে গেলেন। কেউ আবার চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে শুধু দেখে গেলেন শিল্পীদের কাজ।
শট শেষ হতে পরিচালক মিজানুর আরিয়ান জানালেন, মিস্টার অ্যান্ড মিসেস নাটকে ‘রাহাত’ নামের একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন তাহসান, আর মিথিলার নাম ‘মেঘলা’। তাঁরা সদ্য বিবাহিত দম্পতি। ঈদুল আজহায় এই নাটকটি এনটিভির অনুষ্ঠানমালায় প্রচারিত হবে।
পরের দৃশ্যের জন্য ক্যামেরার সামনে যাওয়ার আগে তাহসান-মিথিলা বললেন তাঁদের কাজের অভিজ্ঞতার কথা। তাঁদের প্রশ্ন করা হলো, বাস্তবের স্বামী-স্ত্রী তাহসান-মিথিলা নাটকেও একই চরিত্রে অভিনয় কতটা উপভোগ করেন? তাহসান বলেন, ‘নাটকে সহশিল্পী হিসেবে মিথিলা থাকলে নিজেদের ভুলত্রুটিগুলো ধরিয়ে দেওয়া সহজ হয়।’ আর মিথিলার কথা হলো, ‘দুজন একসঙ্গে কাজ করলে দ্রুত চরিত্রের ভেতর যাওয়া যায় see more 


Info : prothom-alo

ঘুম থেকে তুলে মোশাররফ করিমের জন্মদিন পালন

নাটকের শুটিং শেষে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েন মোশাররফ করিম। আর তাই তো হোটেলে ফিরে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু জন্মদিনের প্রথম প্রহর ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেবেন, তা কি আর হয়! তাই তো জীবনসঙ্গী জুঁই স্বামীকে ঘুম থেকে তুলে কেক কাটলেন। শুটিং ইউনিটের সবাই মিলে মজা করলেন। এভাবেই এবারের জন্মদিনের প্রথম প্রহরটা কেটেছে মোশাররফ করিমের।আজ টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী মোশাররফ করিমের জন্মদিন। ঈদের জন্য নির্মিতব্য ‘অ্যাভারেজ আসলাম’ নামের একটি নাটকের শুটিংয়ের জন্য রোববার তাঁকে কক্সবাজার থাকতে হয়েছে। তাই জন্মদিনটা সেখানে পালন করা হয়। আজ সোমবার যখন মোশাররফ করিমের সঙ্গে কথা হচ্ছিল, তখন তিনি ঢাকার পথে। বললেন, ‘সময় যেন কীভাবে চলে যাচ্ছে। উদ্‌যাপনের মধ্য দিয়ে সময়কে ধরে রাখার একটা চেষ্টা আর কি। আমার এমনিতে ঘটা করে জন্মদিন পালন করা হয় না। তবে ছোটখাটো আয়োজন ভালো লাগে কিন্তু।’
২২ আগস্ট ঢাকায় জন্ম নেওয়া টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী মোশাররফ করিমের গ্রামের
বাড়ি বরিশাল see more 



Info : prothom-alo

নেইমারের পায়েই ঘুচল ব্রাজিলের আক্ষেপ

রাজিলের স্বপ্নপূরণের ভার তুলে দেওয়া হয়েছিল তাঁর কাঁধে। যত না স্বপ্নপূরণ, তার চেয়ে বেশি আক্ষেপ ঘোচানোর। সব জেতা হয়ে গেছে অথচ বিশ্বের সফলতম ফুটবল জাতি কিনা অলিম্পিকে সোনা জিততে পারেনি কখনো!
‘চাপ’ ছিল পাহাড়প্রমাণ। সেটি অতিপ্রাকৃত রূপ নিল টাইব্রেকারে। দুদলের প্রথম চারটি শট থেকেই গোল হয়েছে। তাহলে কি সাডেন ডেথ! এই ম্যাচ ব্রাজিলিয়ানদের স্নায়ুর আর কত পরীক্ষা নেবে!
মহাকাব্যিক এক লড়াইয়ে আসল মোচড়টা এরপরই। পিটারসেনের নেওয়া জার্মানির পঞ্চম শটটি ঠেকিয়ে দিলেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক ওয়েভারটন। নেইমার গোল করতে পারলেই জিতে যায় ব্রাজিল। ঘুচে যায় এত এত বছরের আক্ষেপ।
আশি হাজারের মারাকানায় তখন থমকে গেছে সময়। নেইমার দুই পা এগিয়ে একটু থামলেন। এটাই তাঁর পেনাল্টি নেওয়ার স্টাইল। যা জানা থাকার পরও মনে হচ্ছে, ফুটবলপাগল দেশের প্রত্যাশার চাপ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে না তো তাঁকে! সব জয় করে নেইমার গোল করলেন। ফেটে পড়ল মারাকানা। ম্যাচের শুরু থেকেই সমুদ্রের গর্জন তোলা গ্যালারিতে আনন্দে কে কী করছে, তার ঠিক নেই।
আর নেইমার? নেইমার তখন শুয়ে পড়েছেন মাঠে। অঝোরে কাঁদছেন। উঠে বসলেন একবার। কান্নার দমকেই হয়তো শুয়ে পড়লেন আবারও। ছুটে এসেছেন সতীর্থরা। কাঁদছেন তাঁরাও। এমন আনন্দের কান্না জীবনে কখনো কাঁদেননি তাঁদের কেউ।
এভাবে কতক্ষণ কাটল! পাঁচ মিনিট? দশ মিনিট? কে জানে, মারাকানার সময় তখন নিজস্ব নিয়মে চলছে। একসময় উঠে দাঁড়ালেন নেইমার। শুরু হলো বাঁধনহারা উদ্যাপন। লাফ দিয়ে ফেন্সিং টপকে চলে গেলেন গ্যালারির কাছাকাছি। হাত ছুড়ছেন, লাফাচ্ছেন। যেন অনেক দিনের চাওয়া কোনো খেলনা পেয়ে যাওয়ার পর এক বালকের উল্লাস!
.‘বালক’ই তো! হতে পারে অনেক দিনই তিনি ব্রাজিল নামের এক ফুটবল পরাশক্তির আশাভরসার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু বয়স তো মাত্র ২৪। স্টেডিয়ামে চক্কর দিতে দিতে এলেন অন্য প্রান্তের গোলপোস্টের পেছনে। একটু থমকে দাঁড়ালেন। এই গোলপোস্টেই ম্যাচের ২৬ মিনিটে অসাধারণ এক ফ্রিকিকে নেইমারের গোল এগিয়ে দিয়েছিল ব্রাজিলকে। ৫৯ মিনিটে জার্মান অধিনায়ক ম্যাক্সিমিলিয়ান মেয়ারের সমতাসূচক গোলটিও জড়িয়েছে এই জালেই।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ ওই ১-১ গোলেই। অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময়ের পরও সেটাই স্কোরলাইন। পুরো ম্যাচেই প্রশ্নাতীত আধিপত্য ব্রাজিলের। আবার এটাও সত্যি যে ভাগ্য পক্ষে না থাকলে সেটির কোনো অর্থই থাকত না। প্রথমার্ধেই তো তিন-তিনবার ব্রাজিলের পোস্টে লেগেছে জার্মানদের নেওয়া শট।
দর্শক-উন্মাদনার নতুন এক সংজ্ঞা লিখেছে গত পরশুর মারাকানা। ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার ঘণ্টা খানেক পরও গ্যালারির প্রায় পুরোটাই ভরা। নেইমার যতক্ষণ মাঠে আছেন, তাঁরা কীভাবে চলে যান! উদ্যাপন শেষ হলো। গলায় পরা হলো সোনার পদকও। এরপর ব্রাজিল দলের সব খেলোয়াড়, কোচ, দলসংশ্লিষ্ট বাকি সবাই গোল হয়ে দাঁড়ালেন মাঠের মাঝখানে। দাঁড়িয়ে থাকলেন অনেকক্ষণ। কেউ কি কিছু বলছিলেন? স্মৃতিচারণা হচ্ছিল ফেলে আসা ১৮টি দিনের! নেইমারদের যা অনুভূতির সব রূপের সঙ্গেই পরিচয় করিয়ে দিয়েছে!
প্রথম দুই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইরাকের মতো দলের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর ক্ষতবিক্ষত হতে হয়েছে সমালোচনায়। নেইমারের ওপর দিয়েই বেশি গেছে ঝড়টা। অপমানও কম জোটেনি। জার্সির পেছনে তাঁর নাম বদলে মহিলা দলের স্ট্রাইকার মার্তার নাম বসিয়ে নিয়েছেন সমর্থকেরা। নিজের দেশের দর্শকের কাছ থেকেই শুনতে হয়েছে দুয়োধ্বনি। তখনই কি সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলেছেন নেইমার? যেটি জানালেন ব্রাজিলকে স্বপ্নের সোনা এনে দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই। আর ব্রাজিলের অধিনায়কত্ব করতে চান না। অভিমানটা তখন মনের এক কোণে, বাকিটা জুড়ে শুধুই আনন্দ। যেটি প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না, ‘এটা আমি বলে বোঝাতে পারব না। আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করেছি। দেশের মাটিতে তা করতে পারায় আমি গর্বিত।’
শুধু এত বছরের আক্ষেপ ঘোচানোই নয়, অন্য মাহাত্ম্যও আছে নেইমারদের এই জয়ের। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে পরাজয়ের ‘মিনেইরোজো’, কোপা আমেরিকার প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায়, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ষষ্ঠ স্থান—সবকিছু মিলিয়ে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল নিয়ে গত কিছুদিন যে ‘গেল-গেল’ রব, সেটিও বোধ হয় এবার একটু থামবে। সংবাদ সম্মেলনে এসে সেই ঘোষণাই দিলেন ব্রাজিলের কোচ রোজেরিও, ‘ব্রাজিলিয়ান ফুটবল মরে যায়নি।’
‘ব্রাজিলিয়ান ফুটবল’ মানে শুধু ট্রফি জয়ই নয়, খেলার একটা নির্দিষ্ট ধরনও। প্রথম দুই ম্যাচের পর থেকে নেইমারের নেতৃত্বে এই তরুণেরা সেই ফুটবলটাই খেলেছে, সারা বিশ্ব যা ব্রাজিলের কাছ থেকে দেখতে চায়।
কিন্তু তার আগেই যে এই দলকে শূলে চড়িয়ে ফেলেছেন ব্রাজিলিয়ানরা, তার কী হবে? এর জবাব দিতে পারায় এই সাফল্য কি আরও বেশি আনন্দের? রোজেরিও মিকােল হাসেন, ‘এটা ব্রাজিলিয়ান সংস্কৃতিরই অংশ। আমরা এমনই। হয় ভালোবাসা নয়তো ঘৃণা। আমরা চরমভাবাপন্ন এক জাতি। তবে এই মুহূর্তে আমি একজন ব্রাজিলিয়ান হিসেবে গর্বিত।’
সেই গর্ব এখন সব ব্রাজিলিয়ানেরই। যে গর্বের একটা নামও দিয়ে দিতে পারেন।
নেইমার ডা সিলভা সান্তোস জুনিয়র see more 



Info : prothom-alo