Saturday, November 5, 2016

উইন্ডোজ ৭ এবং ৮.১ এর ইতি টানল মাইক্রোসফট

উইন্ডোজ ৭ এবং ৮.১ এর যাত্রা এখানেই শেষ। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করল মাইক্রোসফট। অবশেষে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটো অপারেটিং সিস্টেম বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

এক বিবৃতিতে মাইক্রোসফট জানায়, বিক্রি বন্ধ মানে উইন্ডোজের নির্দিষ্ট সংস্করণ আর খুচরা ক্রেতা বা অরিজিনাল ইকুইপমেন্টের (ওইএমএস) এর কাছে যাবে না। ওইএমএস হিসাবে ডেল বা তোশিবার নাম বলা যায়। উইন্ডোজ ৭ বা উইন্ডোজ ৮.১ পাওয়ার একমাত্র উপায় ছিল ওইএমএস।

কম্পিউটার নির্মাতারা দুই বছর আগেই পুরনো দুটো উইন্ডোজসম্পন্ন কম্পিউটার বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। এখন থেকে সব নতুন কম্পিউটার উইন্ডোজ ১০ নিয়েই আসবে। আবার যদি আপনি উইন্ডোজ ৭ বা ৮.১ অপারেটিং সিস্টেমের কোনো পিসি কেনেন, তবে তা আর বেশিদিন চলবে না।

২০০৯ সালে উইন্ডোজ ৭ বাজারে আসে। প্রায় ৭ বছর এটি বাজারে প্রতাপের সঙ্গে চলেছে। এরপর উইন্ডোজ ৮ বা ৮.১ টিকে ছিল ৪ বছর। যদিও ৭ ও ৮.১ এর জন্য আপডেট হবে যথাক্রমে ২০২০ সালের জানুয়ারি এবং ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু নতুন করে আর কেউ এ দুটো উইন্ডোজ কিনতে পারবেন না। ফলে উইন্ডোজ ১০ বিক্রি বেড়ে যাবে।

উইন্ডোজ ৭ এবং ৮.১ ব্যবহারকারীদের উইন্ডোজ ১০-এ নিয়ে আসতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মাইক্রোসফট। এর মধ্যে অ্যাপল নতুন ম্যাকবুক প্রো এর মাধ্যমে নতুনভাবে বাজারে এসেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, পারসোনাল কম্পিউটারের বিষয়টি শেষ তো হবেই না, বরং নতুন নতুন আপডেট নিয়ে আসতেই থাকবে।see more 

Info : Kalerkantho.

আচমকা পায়ে টান?

সারা দিন হয়তো একটানা দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয় আপনাকে, কিংবা টানা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন। কারও আবার পায়ে প্রচণ্ড চাপ পড়ে সারা দিনের দৌড়ঝাঁপে। তাঁরা ঘুমের মধ্যে পায়ের মাংসপেশিতে হঠাৎ প্রচণ্ড টান ও ব্যথা অনুভব করতে পারেন। এতে ব্যথায় ঘুম ভেঙে যায়, পা নাড়াতে গেলেও কষ্ট হয়। এ রকম নাজুক সময়ে কী করতে পারেন?
যে পেশিতে ব্যথা অনুভব করছেন, সেটিতে তাৎক্ষণিকভাবে হাত দিয়ে ম্যাসাজ করুন। সম্ভব হলে একটি কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে নিয়ে তা দিয়ে ম্যাসাজ করুন।
মাংসপেশিটি টানটান করতে চেষ্টা করুন। বসা বা শোয়া অবস্থায় পা সোজা রেখে পায়ের আঙুলগুলোকে ভেতরের দিকে টেনে আনতে চেষ্টা করুন। এর ফলে পায়ের পেছনের মাংসপেশি টানটান হবে।
ব্যথা খানিকটা কমে এলে কুসুম গরম পানি ঢালতে পারেন আক্রান্ত স্থানে। গরম সেঁকও দিতে পারেন।
যাঁরা ব্যায়াম করেন, তাঁরা ব্যায়ামের আগে ও পরে পায়ের পেছনের মাংসপেশি টানটান করে স্ট্রেচিং করার অভ্যাস করুন। এতে ব্যায়ামের ফলে পায়ের পেশিতে হঠাৎ চাপ পড়বে না। নতুন কোনো ব্যায়াম করতে চাইলে হঠাৎ করেই বেশি মাত্রায় শুরু করবেন না। যেকোনো ব্যায়ামের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ান।
একনাগাড়ে দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করতে হলেও মাঝে মাঝে পায়ের অবস্থান পরিবর্তন করুন। নিয়মিত বিরতিতে একটু এদিক-ওদিক পা নাড়ান।
প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করুন এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন।
অনেক সময় এসব ক্ষেত্রে পায়ে ব্যথা ও টান ধরে থাকা ছাড়াও পায়ের পেশিতে চাকা বেঁধে আছে বলে মনে হতে পারে। এতে ভয়ের কিছু নেই।

ডা. রাফিয়া আলম
মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল see more 
Info : Prothom-alo.

সব যন্ত্রে এক পাসওয়ার্ড

ইন্টারনেটে পাসওয়ার্ড নিয়ে কম বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না। এত সব ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন। ভুলে গেলে পাসওয়ার্ড উদ্ধার করা আরেক ঝামেলা। এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থেই সব ওয়েবসাইটে এক কিংবা সহজ কোনো পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে নিষেধ করেন বিশেষজ্ঞরা। তাহলে উপায় কী?

পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সফটওয়্যার ব্যবহার করে সহজে এই সমস্যার সমাধান পাওয়া সম্ভব। এই সফটওয়্যারগুলো কম্পিউটার কিংবা মুঠোফোনে ইনস্টল করে নিলে বিভিন্ন ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপে ব্যবহার করা পাসওয়ার্ড নিরাপদে সংরক্ষণ করা যায়। এতে বারবার পাসওয়ার্ড লেখা কিংবা মনে রাখার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের মাস্টার পাসওয়ার্ড মনে রাখলেই হলো। সফটওয়্যারটি চালুর সময় একবার সে পাসওয়ার্ড দিতে হয়।
পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার হিসেবে লাস্টপাস সবচেয়ে জনপ্রিয়, নির্ভরযোগ্যও। কম্পিউটারের জন্য সফটওয়্যারটি নামিয়ে নিয়ে বিনা মূল্যে ব্যবহার করা গেলেও স্মার্টফোনে ব্যবহার করতে হলে নির্দিষ্ট ফি দিতে হতো। তবে নভেম্বর মাস থেকে লাস্টপাসের সব ধরনের সেবা বিনা মূল্যে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে কম্পিউটার হোক কিংবা স্মার্টফোন, যেকোনো একটি যন্ত্রে সংরক্ষণ করা পাসওয়ার্ড পাওয়া যাবে নিজের ব্যবহার করা সব যন্ত্রে।
লাস্টপাসের প্রিমিয়াম সংস্করণও রয়েছে। এতে অতিরিক্ত কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে। প্রিমিয়াম সংস্করণে কোনো বিজ্ঞাপন দেখাবে না। তবে সেটির জন্য মাসে এক ডলার করে ব্যয় করতে হবে।
সফটওয়্যারটি কম্পিউটারের জন্য https://goo.gl/ufd6Vf ঠিকানায়, অ্যান্ড্রয়েডে https://goo.gl/TMNc0j ঠিকানায় এবং আইওএস যন্ত্রে https://goo.gl/zKpSqt ওয়েব ঠিকানায় পাওয়া যাবে see more 
Info : Prothom-alo.

‘নারী’ মেসিকেও পেয়ে গেছে বার্সেলোনা

বারবারা লাতোরে নামটা খুব পরিচিত ছিল না ফুটবলপ্রেমীদের কাছে। বার্সেলোনা নারী ফুটবল দলের এই খেলোয়াড়টি সম্প্রতি যে গোলটি করেছেন, তাতে তাঁকে বলা হচ্ছে ‘নারী মেসি’। নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী এসপানিওলের বিপক্ষে এই বারবারার গোলটি অনেকটা মেসির মতোই। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বারবারার এই গোলটি পরিচিতি পেয়েছে ‘আশ্চর্য গোল’ হিসেবেই।গোলটি দেখলে মেসির দৃষ্টিতেও ঝরে পড়বে অপার মুগ্ধতা। এসপানিওলের সীমানার বাঁ প্রান্তে একেবারে টাচলাইনের কাছে বলটি ধরে তীব্র গতি দিয়ে বারবারা পেছনে ফেললেন একের পর এক এসপানিওল খেলোয়াড়কে। চতুর্থজনের ট্যাকলে পড়েও গেলেন। কিন্তু দ্রুততার সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে আবারও শুরু করলেন দৌড়। বক্সের মধ্যে ঢুকে আরও একজনকে কাটিয়ে গোলকিপারের বাঁ দিক দিয়ে বাঁকানো শটে পাঠিয়ে দিলেন জালে।
এমন একটি গোল করে আলোচিত বারবারার মন্তব্য কিন্তু বেশ নির্লিপ্তই, ‘আসলে আমি বলটি পেয়ে গোলপোস্টের দিকেই দৃষ্টি রেখে এগোচ্ছিলাম। শেষ পর্যন্ত গোলটি করে আনন্দিত। আমিও বুঝতে পারছি না কী করে জানি গোলটা হয়ে গেল।’
গোলটির ভিডিও ফুটেজ এখন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঝড় তুলেছে। এতটাই জনপ্রিয় হয়ে গেছে, বার্সেলোনা ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে গোলটি নিয়ে মন্তব্য করার লোভ সামলাতে পারেননি, ‘বারবারার এ গোলটির শুরুটা গেটাফের বিপক্ষে মেসির করা সেই গোলটির মতো। শেষটা রোনালদোর (ব্রাজিলের) কমপোসতেয়ার বিপক্ষে করা গোলটির মতো।’
একই গোলে যদি মেসি আর রোনালদো দুজনই থাকেন, তাহলে সেই গোলটি সেরা না হয়ে কি কোনো see more 

Info : Prothom-alo

‘হাথুরুসিংহে অনেক সৌভাগ্যবান’

ইংল্যান্ডকে স্পিনজালে আটকানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু স্বাগতিক দল কি আগে থেকেই কখনো প্রতিপক্ষকে আটকানোর কৌশলটা বলে দেয়? বালক-বীর মেহেদী হাসান এসেই চমকে দিলেন। কিন্তু এর পর থেকে তাঁকে নিয়ে সারা দেশে যা হচ্ছে, তা কি ঠিক? চন্ডিকা হাথুরুসিংহে নিঃসন্দেহে সফল কোচ। কিন্তু সবকিছুতেই তাঁকে অবাধ স্বাধীনতা দিয়ে দেওয়াটা কি ভালো? মিরপুরে গত পরশু তারেক মাহমুদকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাত্কারে এ রকম আরও অনেক প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম
 মাঝখানে ১৫ মাস টেস্ট খেলেনি বাংলাদেশ। তারপরও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এত ভালো খেলা কীভাবে সম্ভব হলো? 

মুশফিকুর রহিম: ইংল্যান্ডের সঙ্গে জেতা বা ভালো খেলার চেয়ে বড় ব্যাপার ছিল, ১৫ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমেও যেন আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারি। আমাদের প্রস্তুতি ভালো ছিল। দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ না খেললেও প্রায় সবাই খেলার মধ্যে ছিল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের খুব ভালো পরিকল্পনা ছিল, যেটা আমরা কাজে লাগাতে পেরেছি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উইকেট কী রকম হবে, একাদশ কী হবে...সিরিজের দুই মাস আগে থেকেই এসব নিয়ে পরিকল্পনা শুরু হয়। মিরাজ টেস্ট খেলবে, এই পরিকল্পনাও আগে থেকেই ছিল। ওদের দলে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান অনেক। অন্যদিকে মিরাজের চেয়ে ভালো অফ স্পিনার বাংলাদেশে এখন নেই। সে জন্য আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল, যত ভালোই খেলুক ওয়ানডেতে ওকে খেলাব না। টেস্টে ইংল্যান্ডকে একটা বিস্ময় উপহার দিতে চেয়েছিলাম আমরা। মিরাজই সেই বিস্ময়। আল্লাহর রহমতে আমাদের পরিকল্পনা সফল হয়েছে।
* এ রকম সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে আগে কখনো খেলেছেন? ১৫ মাস পর খেলা সিরিজকে কেন বেছে নিলেন এটার জন্য?
মুশফিক: খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট—সবাই মিলে ভেবে দেখলাম, আর কত দিন এ রকম ফ্ল্যাট উইকেটে খেলব! আমাদের শক্তির জায়গাটাই যদি কাজে লাগাতে না পারি তো কীভাবে হবে? ফ্ল্যাট উইকেটে স্পিন করানো খুব কঠিন। বিশেষ করে প্রথম দুই-তিন দিন। শেষ দুই দিনের অপেক্ষায় থাকতে হয়। আর ওরা যদি টসে জিতে আগে ব্যাটিং নিয়ে ৪৫০-৫০০ রান করে ফেলে আমরা ওখান থেকেই অনেক ব্যাকফুটে চলে যাব। সে জন্যই মনে হলো, এবার একটু পরিবর্তন করে দেখি কী হয়। প্রথমে সিনিয়র খেলোয়াড়েরা একমত হলো, হয়তো কষ্ট হবে রান করতে। তবু চেষ্টা করে দেখি। এত দিন একভাবে করে সাফল্য পাইনি। এবার নিজেদের শক্তি কাজে লাগিয়ে দেখি কী হয়।
* পরিকল্পনাটা প্রথম কার মাথা থেকে আসে? আপনি নাকি বলেছিলেন, তিন দিনে খেলা শেষ হয়, এমন উইকেট চান...
মুশফিক: যেদিন জানলাম ইংল্যান্ড নিশ্চিত আসছে, আমরা সিনিয়র খেলোয়াড়েরা তখনই পরিকল্পনা করি, তিন দিনের একটা উইকেট বানিয়ে খেলা যায় কিনা। আমি কথাটা কোচকে বলি। কোচেরও আইডিয়াটা খুব পছন্দ হয়।
* অনেক দিন ধরেই তো দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আপনি। আগের টেস্টগুলোর চেয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই দুই টেস্টে খেলোয়াড়দের মানসিকতায় কী পরিবর্তন লক্ষ করেছেন?
মুশফিক: সবচেয়ে বড় হলো আত্মবিশ্বাস। ভালো করার জন্য যে টেস্টেই আপনাকে নিয়মিত ভালো খেলতে হবে, এমন নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাঁচ-ছয় মাস ভালো খেললে এমনিতেই আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। গত এক-দেড় বছরে আমরা ওয়ানডে খুব ভালো খেলেছি। টি-টোয়েন্টিও খারাপ খেলিনি। সে জন্যই দলের মধ্যে বিশ্বাসটা ছিল। এই জিনিসগুলোই যদি আমরা লম্বা সময় ধরে করতে পারি, টেস্টেও কেন ভালো ফল হবে না? এ ছাড়া পুরো সিরিজে সিনিয়ররা যেভাবে জুনিয়রদের সাহায্য করেছে, এটা বিশাল ব্যাপার। মিরাজও বলেছে, ওর কখনো মনেই হয়নি ও জাতীয় দলে খেলছে।
* মিরাজের ওপর আপনাদের অনেক বেশি আস্থা ছিল। আপনারা যেন একরকম নিশ্চিতই ছিলেন যে, মিরাজ এসেই ভালো করবেন। দলের পরিকল্পনারও বড় অংশ ছিলেন তিনি। মাত্র ১৯ বছর বয়সী নতুন একজন খেলোয়াড়ের ওপর এত আস্থার কারণ কী? 
মুশফিক: মিরাজ যা করেছে তার পুরো কৃতিত্ব ওরই। ক্রিকেটে ভাগ্য না থাকলে কিছু হয় না, তবে সে যেভাবে বল করেছে, নিজের শক্তির দিকটা কাজে লাগিয়েছে, এগুলোর কৃতিত্ব শুধু তারই প্রাপ্য। ওর সম্পর্কে আমাদের এ রকমই ধারণা ছিল, বিশ্বাস ছিল সে এ রকম কিছু করে দেখাবে।
* এখন থেকে কি সব সিরিজেই বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবেন?
মুশফিক: আমরা এখন যে পর্যায়ে আছি, এ রকম নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েই খেলা উচিত। আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ দেশের বাইরে ধারাবাহিক ভালো খেলা। সে ক্ষেত্রে কন্ডিশন অনুযায়ী দলের কম্বিনেশনও অন্য রকম হতে হবে।
* অধিনায়কত্ব কেমন উপভোগ করছেন?
মুশফিক: অবশ্যই খুব উপভোগ করছি। ১৫ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমে আমরা ভালো খেলেছি, সে জন্যই বেশি ভালো লাগছে। আরও ভালো লাগছে আমার ৫০তম টেস্টে আমরা জিতেছি বলে। এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! হয়তো আমি খুব বেশি অবদান রাখতে পারিনি। কিন্তু এমনও তো হতে পারত, আমি সেঞ্চুরি করলাম আর দল হারল। সেটা কোনোভাবেই ভালো হতো না।
* নিজের এই ৫০ টেস্টের ক্যারিয়ার নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট?
মুশফিক: অবশ্যই আরও ভালো কিছু করা উচিত ছিল আমার। ৫০টির মধ্যে ২০-৩০টিতেই মনে হয়েছে এ বুঝি আমার প্রথম টেস্ট! অনেক সময় কীভাবে টেস্ট খেলতে হয় সেটাই বুঝতে পারিনি বা বুঝতে অনেক সময় লেগেছে। নিয়মিত টেস্ট খেললে হয়তো এত বেশি সময় লাগত না। অনেকে সহজে মানিয়ে নিতে পারে, তবে আমার একটু সমস্যাই হয়। অবশ্য কয়েক বছর ধরে যেভাবে খেলছি, সেটা ধরে রাখতে পারলে ক্যারিয়ার শেষে অত বেশি আফসোস থাকবে না, ইনশা আল্লাহ।
* ক্যারিয়ার শেষে টেস্টে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
মুশফিক: ওয়ানডে, টেস্ট দুটি মিলিয়ে রানের গড় অন্তত ৪০ দেখতে চাই। ইচ্ছা আছে আরও অন্তত ৫০টি টেস্ট খেলার। এটা আমার স্বপ্ন বলতে পারেন।
* একটু অন্য প্রসঙ্গ। স্বাগতিক দলের হোম কন্ডিশনের সুবিধা নেওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা নিয়ে স্বাগতিকদের কখনোই প্রকাশ্যে কথা বলতে দেখা যায় না। বাংলাদেশ দলের ক্ষেত্রে এবার দেখা গেল উল্টোটা। উইকেট নিয়ে পরিকল্পনার কথা আপনারা সিরিজের মধ্যে বারবার প্রকাশ্যে বলেছেন...
মুশফিক: আমরা এ বিষয়টা প্রথম থেকে বলার চেষ্টা করেছি এই কারণে, ওরা যেন এ নিয়ে অনেক ভয়ে থাকে। আপনি যখন একজন খেলোয়াড়কে বারবার বলবেন এই উইকেটে এই হয়, বা উইকেটটা ও রকম হতে পারে, যত বড় ব্যাটসম্যানই হোক, অবচেতনে নার্ভাসনেস কাজ করবেই। কুকের খেলা দেখে তাই মনে হয়েছে। উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে আমার মনে হয়েছে, টেস্টে ১০ হাজার রান করে ফেললেও কুক জানে না নতুন বলে অফ স্পিন কীভাবে খেলতে হয়। তারা যেহেতু স্পিনে দুর্বল, আমরা আমাদের স্পিনশক্তির কথাই তাদের আগে থেকে জানাতে চেয়েছি। আর আমরা যখন ইংল্যান্ডে যাই জীবনেও কিন্তু আমরা আশা করি না যে ফ্ল্যাট উইকেট হবে।
* তবু তারা তো কখনো মুখে বলে না যে, বাংলাদেশের জন্য ফাস্ট-বাউন্সি উইকেট বানানো হচ্ছে। উইকেট ও রকম হবে এটা আপনারা অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝেন...
মুশফিক: (হাসি) মাঠে কিন্তু ওরা সারাক্ষণই এসব বলতে থাকে। এখানেও খেলার সময় বারবার বলেছে, ‘তোমরা ইংল্যান্ডে আসো। তখন দেখব কেমন খেলো।’ বেয়ারস্টো, স্টোকস অনেকবার বলেছে, ‘ইংল্যান্ডে কিন্তু এ রকম উইকেট কখনো পাবে না।’ তামিমকেও বলেছে, ‘ইংল্যান্ডে আসো। তুমি প্রতি বলে লেগ বিফোর হবে।’ তামিমও জবাব দিয়ে বলেছে, ‘তুমি মনে হয় জানো না ইংল্যান্ডে আমার দুটি সেঞ্চুরি আছে।’ বলতে পারেন এটা একটা মাইন্ড গেম। আমার মনে হয় এটা একটু হলেও ওদের মানসিক চাপে ফেলেছে।
* উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেই আপনি বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। কিন্তু এবার বলেছেন, টিম ম্যানেজমেন্ট যে ভূমিকায় চাইবে সে ভূমিকায়ই খেলবেন। চিন্তাভাবনায় এই পরিবর্তন কীভাবে এল?
মুশফিক: (হাসি) টিম ম্যানেজমেন্ট যদি ভাবে আমাকে সব বাদ দিয়ে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে হবে, আমি তো তাদের ওপরে কিছু বলতে পারব না। তারা আমাদের অভিভাবক। তারা যেটা ভালো মনে করবে তাই হবে।
* আপনি নিজে কি এখনো উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেই বেশি স্বচ্ছন্দ?
মুশফিক: তা তো অবশ্যই। এটা আমি সব সময়ই মনে করি এবং সব সময় উপলব্ধিও করি। উইকেটকিপার হিসেবে স্টাম্পের পেছন থেকে যা দেখতে পাই, সেটা আমাকে ব্যাটসম্যান বা অধিনায়ক সবভাবেই অনেক সাহায্য করে। ব্যাটিংয়ের সময় আমাকে কী করতে হবে, সে ধারণাও অনেক সময় আগে থেকে পেয়ে যাই। সব সময় হয়তো সেভাবে রান করতে পারি না, তবে উইকেট সম্পর্কে ধারণাটা সবার আগে আমারই হয়। দলের অন্য ব্যাটসম্যানরা, বিশেষ করে তামিম আমার সঙ্গে আলোচনা করে, জেনে নেয় উইকেটে কী হচ্ছে। কী শট খেলা উচিত।
* কোনো সন্দেহ নেই, চন্ডিকা হাথুরুসিংহে একজন ভালো কোচ। তাঁর অধীনে দল সাফল্যও পাচ্ছে। কিন্তু তাঁকে নিয়ে কিছু নেতিবাচক আলোচনাও আছে। নিজের সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে দিতে চান, বিসিবি তাঁকে অনেক বেশি স্বাধীনতা দিয়েছে ইত্যাদি। এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য?
মুশফিক: কেউ সাফল্য পেলে তাকে তো কৃতিত্ব দিতেই হবে। তবে আমি বলব, হাথুরুসিংহে অনেক সৌভাগ্যবান। কারণ দলে এখন এমন অনেক পারফরমার আছে, যারা নিয়মিত ভালো খেলছে। নতুনরা এসেও ভালো খেলছে। এটা তিন বছর আগেও ছিল না। এখানেও অবশ্য কোচকে কৃতিত্ব দিতে হবে, কারণ নতুন হোক বা অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হোক—তিনি স্বাধীনতা দেন। যার যেটা শক্তির জায়গা, সেটা দিয়ে খেলতে বলেন। তাতে কেউ বাজে আউট হলেও কোচ কিছু বলেন না। সৌম্য, সাব্বিরের মতো যারা স্ট্রোক বেশি খেলে তাদের জন্য এটা অনেক বড় স্বাধীনতা। তবে একটা পরিবারের ভেতর তো অনেক কথাই থাকে। বাংলাদেশ দলও একটা পরিবার। পরিবারের যেসব কথা বাইরের মানুষ না জানলেই ভালো, সেগুলো না বলাই ভালো।
* টেস্ট ক্রিকেটে এসেই দুর্দান্ত পারফর্ম করে হইচই ফেলে দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সংবাদমাধ্যমসহ সারা দেশ এখন তাঁকে নিয়েই আছে। এটাকে কীভাবে দেখেন?
মুশফিক: একজন ক্রিকেটারের কাজই হলো পারফর্ম করা। এটা অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। ভালো খেলবে বলেই তো মিরাজ জাতীয় দলে! তবে হ্যাঁ, সে অবশ্যই বিশেষ প্রতিভা। এসেই দারুণ খেলেছে। তবে এটা নিয়ে যে এত কিছু হচ্ছে, তা আসলেই অপ্রত্যাশিত। ও এখনো ১৯ বছরের একটা বাচ্চা ছেলে। দুই-তিন বছর টানা ভালো খেলার পর এ রকম হতে পারে, তার আগে নয়। আল্লাহ না করুন, ওর যখন বাজে ফর্মে যাবে, তখন কিন্তু এত কিছু সে পাবে না। চাপটা অন্য রকম হবে। জাতীয় দলে ভালো খেলতে খেলতে আপনার ওপর সবার আস্থা আসবে। তারপর যখন আপনি খারাপ খেলবেন, মানিয়ে নেওয়াটা তখনই বেশি কঠিন। নাসির-সৌম্যরা এখন সেটা বুঝতে পারছে। তবে মোস্তাফিজের ব্যাপারটা পুরোই ব্যতিক্রম। আমার বিশ্বাস, আমার জীবদ্দশায় ওকে আমি কোনো দিন বাজে ফর্মে দেখব না। ওর মধ্যে আল্লাহপ্রদত্ত কিছু একটা আছে। কোনো কিছুই গায়ে মাখে না।
* এ রকম পরিস্থিতিতে মিরাজের জন্য কোনো পরামর্শ?
মুশফিক: প্রত্যাশা যেহেতু বেড়ে গেছে, এখন ওকেই এটা সামলাতে হবে। আমাদের সমর্থন সব সময়ই থাকবে। তবে সবার মনে রাখা উচিত, খেলাটা আমাদের রুটিরুজি, আমাদের দায়িত্ব। ১০ রান করে চলে আসব, সে জন্য আমাকে জাতীয় দলে নেওয়া হয়নি। আমাদের কাজই ৫০ করা, ১০০ করা। মিরাজেরও কাজ ৫ উইকেট নেওয়া, ১০ উইকেট নেওয়া। এটুকু করার পরই এত কিছু হলে সেটা ওই খেলোয়াড়ের ওপরই বাড়তি চাপ তৈরি করে। এখন তো ও কোথাও গেলে শান্তিমতো ঘুরতে পারবে না see more 


Info : Prothom-alo.

অস্ট্রেলিয়ার হাসি কাড়ল প্রোটিয়ারা

দ্বিতীয় দিনে পার্থ টেস্ট ঘুরে গেল ১৮০ ডিগ্রি। কে জানত, প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়ার হাসি এমনভাবে কেড়ে নেবে দক্ষিণ আফ্রিকা? দ্বিতীয় দিন শেষে ৮ উইকেট হাতে রেখে ১০২ রানে এগিয়ে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার হাতেই তো এখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ।
অথচ সকালটা আভাস দিচ্ছিল অন্য কিছুর। আগের দিনের সঙ্গে আরও ৫৩ রান যোগ করে ফেলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার। ডেভিড ওয়ার্নারের সেঞ্চুরিটা তখন মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। দক্ষিণ আফ্রিকার ২৪২ রানকেও তখন মনে হচ্ছিল ছোট্ট একটা টিলা। কে জানত, সেটি টপকাতেই অস্ট্রেলিয়ার এমন দম ফুরিয়ে যাবে? সেঞ্চুরি থেকে ৩ রান দূরে ওয়ার্নার যখন আউট হলেন, অস্ট্রেলিয়ার রান তখন ১৫৮। এরপর ৮৬ রান যোগ করতেই হারিয়ে ফেলেছে ৯ উইকেট। তার চেয়েও বড় কথা, দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ ৯ উইকেট তুলে নিয়েছে ডেল স্টেইনকে ছাড়াই। 
দিনের প্রথম আঘাতটা দিয়েছিলেন স্টেইনই। কিন্তু ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর করতে পারলেন মাত্র আটটি বল। কাঁধের পেশিতে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছেন প্রোটিয়া পেসার। সফরটাই শেষ হয়ে গেছে তাঁর।
দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য যেটি বড় আঘাত হওয়ার কথা ছিল, সেটিকে তারা যেন নিল উল্টো প্রেরণা হিসেবে। ভারনন ফিল্যান্ডার, কাগিসো রাবাদা ও অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার কেশব মহারাজের বলে এরপর একের পর এক উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। রাবাদার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ছত্রখান খাজার স্টাম্প, কেশবের প্রথম টেস্ট উইকেটের শিকার অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। শন মার্শও ৬৩ রান করে ফিল্যান্ডারের বলে এলবিডব্লু। দুই ওপেনার ওয়ার্নার-মার্শের পর অ্যাডাম ভোজেস (২৮), পিটার নেভিল (২৩) ও পিটার সিডলের (১৮*) ব্যাটিংয়েই মাত্র ২ রানের লিড নিতে পারে অস্ট্রেলিয়া। ফিল্যান্ডার ৫৬ রান দিয়ে পেয়েছেন ৪ উইকেট, মহারাজও ওই ৫৬ রানেই পেয়েছেন তিনটি। ৭৮ রান দিয়ে রাবাদা পেয়েছেন ২ উইকেট। 
ব্যাটিংয়ের হতাশা বোলিংয়েও আরও বেড়েছে অস্ট্রেলিয়ার। ৪৫ রানের ভেতর কুক ও আমলাকে ফিরিয়ে একটু আশা দেখাচ্ছিলেন সিডল-হ্যাজলউড। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের হতাশ করে ৫৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাঠ ছেড়েছেন এলগার-ডুমিনি। স্টার স্পোর্টস see more 
Info : Prothom-alo.

বিপিএলের প্রথম দিনে বৃষ্টিবাধা

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ও রাজশাহী কিংসের টসটাই শুধু নির্বিঘ্নে হয়েছে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিপিএলের প্রথম দিনের বাকিটা ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। টিপ টিপ বৃষ্টিতে দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে নিরাশ হয়েই ঘরে ফিরেছেন দর্শকেরা।
কাল প্রথম ম্যাচটি ছিল কুমিল্লা-রাজশাহীর। টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রাজশাহী অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। টসের খানিক পরেই শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। সেই যে শুরু, বৃষ্টি আর থামেনি। বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে জানিয়ে দেওয়া হয়, ম্যাচ পরিত্যক্ত। বৃষ্টিবাধা উপেক্ষা করে তবুও দর্শকেরা অপেক্ষায় থাকেন সন্ধ্যায় খুলনা টাইটানস ও রংপুর রাইডার্সের ম্যাচটির জন্য। বৃষ্টির কারণেও সেটি হয়নি। রাত ৯টা ২৫ মিনিটে জানিয়ে দেওয়া হয়, এই ম্যাচও পরিত্যক্ত।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়ার যে পূর্বাভাস, বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে আরও কয়েক দিন। তাই এবার বিপিএলের শুরুর দিকে ম্যাচগুলো নির্বিঘ্নে হবে কি না, তা নিয়ে আছে সংশয়।
বৃষ্টির মধ্যেও কাল ছুটির দিনে গ্যালারিতে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল বলার মতোই। সন্ধ্যায় বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ শুরু হয় কনসার্ট। ব্যান্ড এলআরবির পরিবেশনা শেষ হতেই আকস্মিক আতশবাজির ফোয়ারায় কেঁপে ওঠে স্টেডিয়াম! বড় উপভোগ্য সে দৃশ্য। কিন্তু মাঠে যদি ব্যাটে-বলের লড়াইটাই না দেখা যায়, দুধের সাধ কি আর ঘোলে মেটে see more 

Info : Prothom-alo.