Sunday, October 30, 2016

আইসিসি, আরও বেশি টেস্ট খেলতে দাও

এবারের পুরো সিরিজে বারবার আলোচিত হয়েছে বিষয়টি। ইংলিশ ক্রিকেটারদের অনেকে অবাক হয়েছেন জেনে, ১৫ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। সেটিও মাত্র দুই ম্যাচেই শেষ হয়ে যাবে ২০১৬ সালের টেস্ট সূচি। এমন বিরতিতে বারবার পড়ে বাংলাদেশ। আজ ম্যাচ শেষে মাইক আথারটনও প্রশ্নটা করলেন। জবাবে টেস্ট অধিনায়ক মুশফিক এক রকম আকুতিই জানালেন, বাংলাদেশকে যেন আরও বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ দেওয়া হয়। 
ওয়ানডেতে বাংলাদেশ বদলে যাওয়া এক দল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়ের পরও টেস্টে বাংলাদেশের দুর্বলতা অস্বীকার করার উপায় তো নেই। তবে বাংলাদেশ খেলতেই নামে এত দীর্ঘ বিরতির পর, এক সিরিজে খেলোয়াড়েরা যা শেখেন, পরের সিরিজ আসতে আসতেই তো ভুলে যান। মুশফিক বললেন, ‘আমরা ​ধীরে ধীরে টেস্টেও নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছি। তবে আরও বেশি টেস্ট খেলতে পারলে আরও বেশি বেশি ভালো ফল তো আসতই। আশা করি, আইসিসি ও অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডগুলো আমাদের বিপক্ষে বেশি করে খেলবে।’
মুশফিকের নিজের এটি ছিল ৫০তম টেস্ট। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে মুহূর্তটা স্মরণীয় করে রাখতে না পারলেও দলীয় সাফল্যে সেই হতাশা অবশ্যই মুছে গেছে তাঁর। কিন্তু মুশফিকের এই দুঃখ কী করে মুছবে, ৫০টি টেস্ট ম্যাচ খেলতে ১১ বছর সময় লাগল তাঁর। দলের বাকি সিনিয়র ক্রিকেটারদেরও খুব বেশি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই।
সাকিব আর কুকের আন্তর্জাতিক অভিষেক প্রায়ই কাছাকাছি সময়ে। দুজনই আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রেখেছেন ২০০৬ সালে। এই ১০ বছরে কুক খেলেছেন ১৩৩ টেস্ট, সাকিব সেখানে ৪২টি! এমনকি ২০১২ সালের ডিসেম্বরে টেস্ট অভিষেক হওয়া জো রুটও সাকিবের চেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছেন, ৪৬টি। তামিম প্রায়ই আফসোস করেন, অন্য দলের মতো সুযোগ পেলে এত দিন ৮০-৯০ টেস্ট খেলে ফেলতেন। তাঁর রানটাও হয়তো দ্বিগুণ হতো।

এমনও হয়েছে, বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড় দুর্দান্ত ফর্মে থেকে কোনো সিরিজ শেষ করলেন। পরের টেস্ট সিরিজটা খেলতে খেলতে ফর্মই চলে গেল তাঁর। তামিমই যেমন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস ও ওল্ড ট্রাফোর্ডে টানা সেঞ্চুরির সেই সিরিজটার ১৪ মাস পর খেলেছেন আরেক টেস্ট সিরিজ! এ বছর এখনো টেস্টই খেলেনি বাংলাদেশ। বছরের শেষ দিকে এসে দুটি টেস্ট খেলছে। ২০১২ সালেও এমন মাত্র দুটি টেস্ট খেলছিল বাংলাদেশ পুরো বছরে!
মুশফিকের আকুতি কি শুনবে আইসিসি see more 
Info : Prothom-alo.

Saturday, October 29, 2016

চুল যখন রঙিন

নিজেকে একটু অন্যভাবে উপস্থাপন করতে কে না চায়? ভিন্নতা আনার জন্য পোশাক, চুলের কাট তো পাল্টে ফেললেন। সঙ্গে কেশগুচ্ছকেও চাইলে রাঙিয়ে নিতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চেহারায় ভিন্নতা আনার জন্য চুলের রঙেরও ভূমিকা থাকে।
রঙিন চুলের গোড়ার কথাবহুকাল আগে থেকেই প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে মেহেদি, হলুদ, আমলকী দিয়ে চুল রং করার প্রচলন চলে আসছে। কিন্তু আধুনিক হেয়ার কালারের প্রচলনটা শুরু করেন ইউজিন স্কিউলার। তিনি আর কেউ নন, ল’রিয়েল কোম্পানির স্বয়ং প্রতিষ্ঠাতা। ১৯ শতকের দিকে ইউজিন স্কিউলার ‘সিনথেটিক হেয়ার ডাই’ নামে চুলের রং তৈরি করেন। আর এই হেয়ার ডাই পরিচিতি এক গুণ বাড়িয়ে তোলেন হলিউডের নামীদামি সব অভিনেত্রী। এই তালিকায় আছেন মেরিলিইন মনরো, রিটা হেয়ওয়ার্থ, লুসিল বলের মতো তারকারা। এই তারকাদের স্টাইল যেন আমরা এখনো অনুসরণ করে চলছি।
এ কালের বর্ণিল রংআজকাল অনেকেই চুল রং করে থাকেন। কিন্তু চাইলেই তো আর যেকোনো রং চুলে আনা সম্ভব নয়। রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, ‘সুন্দর চুলের স্টাইল আপনাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে তোলে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সঠিক রং বাছাই করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এই সময়ে রেডিশ বাদামি, ব্লন্ড কিংবা সোনালি, বারগ্যান্ডি, স্ট্রবেরি ব্লন্ড, জেট ব্ল্যাক কিংবা চেরি লাল বেশি জনপ্রিয়। অনেকে আবার সম্পূর্ণ চুল রং না করে স্টিক হিসেবে হাইলাইট, লোলাইট করতে পছন্দ করছেন। এ ছাড়া অমব্রে, মেহগনি, কপার এই রংগুলো বেশ চলছে।
তবে একটু ট্রেন্ডি হেয়ার কালারের ক্ষেত্রে বানথাই বার্বার অ্যান্ড বিউটি স্যালনের হেয়ার স্টাইলার কাজী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আজকাল তো শুধু বাদামি কিংবা লাল রঙের মধ্যেই স্টাইল সীমিত নেই। একটু আধুনিক লুক যদি আনতে চান তবে শুধু নিচের দিককার চুলগুলো রং করে নিতে পারেন। আর রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বেগুনি, নীলচে সবুজ, ব্রুনেট, ডার্ক অবার্ন, চেস্টনাট অথবা বিভিন্ন শেড যুক্ত রং দেখতে পারেন। আজকাল হেয়ার কালারের ক্ষেত্রে একই রঙের বিভিন্ন শেড পাওয়া যায়।’
ঘরে বসেই রং করতে চাইলেচুলে রং লাগানোর সময় কপাল, গাল কিংবা ঘাড়েও লেগে যায়। তাই এসব স্থানে ভ্যাসলিন বা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নেওয়া ভালো। একে বলা হয় কোটিং। খেয়াল রাখুন চুলের রং যদি বেশি গাঢ় করতে চান তাহলে চুলের রঙের ডেভেলপার ২০ শতাংশ মিশিয়ে নিন। আর হালকা রঙের জন্য ১০ শতাংশ ডেভেলপারই যথেষ্ট।
এরপর চুল ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোমতো শ্যাম্পু করে নিন। সঙ্গে কন্ডিশন করে নিতে পারেন। আর রং করার সময় অবশ্যই হাতে গ্লাভস পরে নেবেন।
চুল রং করার আগে
চুলে রং করার সিদ্ধান্ত তো নিলেন কিন্তু রং করার আগে কিছু বিষয় মনে রাখুন—
*প্রথমেই চুলের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। রুক্ষ ও ভঙ্গুর হলে চুল রং না করাই ভালো। কেননা এ ধরনের চুলে রং দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আবার রাসায়নিক পদার্থের কারণে চুলের রুক্ষতা আরও বেড়ে যায়। তবে এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ কোনো বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে নিতে পারেন। প্রয়োজনে চুলের ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন।
*আগে জেনে নিন কোনো রং আপনার জন্য মানানসই। আপনার ত্বক, চুলের ধরন, স্টাইল, বয়সকে গুরুত্ব দিন। এর ভিত্তিতে চুলের রং বাছাই করুন। আফরোজা পারভীন বলেন, ‘শুধু ত্বক কিংবা চুলের ধরনই নয়, অনেক সময় চোখের রংও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই হিসেবে আপনি বেছে নেবেন আপনার চুলের রং কি সোনালি ব্লন্ড হবে, না প্লাটিনামের কোনো শেডযুক্ত হবে।’
*অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, চুলের রং বাছাই করা হলো একটি। কিন্তু কালারের পর রং এল আরেকটি। অনেকের আবার চুলে রং আসতে সময় নেয় বেশি। কারও আসতেই চায় না। কেন এমন? কামরুল ইসলাম জানান, এমনটি হয় মূলত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের কারণে।
চুলে রং করার আগে অনেকেই মেহেদি বা কলপ লাগিয়ে থাকেন। এর ফলে একেক ধরনের চুলে একেক রকমের প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে আফরোজা পারভীন বলেন, ‘চুলে রং করার আগে কখনোই কালো কলপ ও মেহেদি ব্যবহার করবেন না। তবে অন্য কোনো রং যদি আগে থেকেই থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে সমস্যা নেই।’
অবশ্য এ ক্ষেত্রে নির্ভর করছে আপনি কী ধরনের রং করতে চাচ্ছেন। যদি ব্লন্ড হাইলাইট করতে চান, তবে কলপ দেওয়া চুলে কখনোই এই রং আসবে না। আগে মেহেদি দেওয়া থাকলে ব্লন্ডের পরিবর্তে একটু কমলা বা বাদামি রং আসতে পারে। তাই আপনি কী রং করতে চান, এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আগে কথা বলে নিন।
*চুলের রঙের সঙ্গে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ তা হলো চুলের কাট। রং করানোর আগে চুলে একটা নতুন কাট দিতে পারেন। এর ফলে চেহারায় নতুনত্ব তো আসবেই, এ ছাড়া রংটা বেশ মানানসই হবে। যেমন আপনি যদি নিচের দিকে রং করতে চান তবে চুলগুলো ট্রিম করে নিতে পারেন। অথবা লম্বা চুলের ক্ষেত্রে স্টেপ বা ভি-কাট দিয়ে নিতে পারেন। এতে চুলের স্বাস্থ্যও ঠিক থাকবে।
*আর চুল রং করার আগে অবশ্যই ভালোমতো শ্যাম্পু করে নিন। প্রয়োজনে কন্ডিশনারও ব্যবহার করতে পারেন।
চুল রং করার পরে
রং তো করেই ফেললেন। এবার চাই প্রয়োজনীয় যত্ন-আত্তি।
*চুলের রঙে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য যুক্ত থাকে, যা চুলকে করে দিতে পারে রুক্ষ। তাই নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। চাইলে সপ্তাহে এক দিন ডিপ কন্ডিশন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আফরোজা পারভীন পরামর্শ দেন কালার শ্যাম্পু, কালার কন্ডিশনার ও কালার মাস্ক ব্যবহারের।
*চুলে রিবন্ড থাকলে সপ্তাহে একবার ট্রিটমেন্ট নেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া রুক্ষ চুল যাঁদের, তাঁরাও সপ্তাহে ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন। তবে ট্রিটমেন্টের সময় যেকোনো স্পা, প্রোটিন ট্রিটমেন্ট আপনি নিতে পারেন। তবে হারবাল ট্রিটমেন্ট একেবারেই উপেক্ষা করুন। কেননা এতে চুল আরও রুক্ষ হয়ে যায়।
*সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন তেল মালিশ করুন। দুই হাতের আঙুলে তেল নিয়ে আলতোভাবে ওপর থেকে নিচ বরাবর মালিশ করুন। যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁরা শ্যাম্পু করার এক ঘণ্টা আগে তেল লাগাতে পারেন। নারিকেল, আমলকী, জলপাই কিংবা বাদাম তেল এ ক্ষেত্রে বেশ উপকারী। চাইলে তেলটাকে একটু গরম করে নিতে পারেন, এতে খুশকির সমস্যা দূর হবে।
*রঙিন চুলে রুক্ষতা কমানোর জন্য শ্যাম্পু করার পরে চায়ের লিকার ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া তেলের সঙ্গে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।
*ঘরে বসেই কিছু প্রাকৃতিক প্যাক লাগাতে পারেন। মেথি, ডিম, অ্যালোভেরা জেল, টক দই অথবা পাকা কলা এ ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে।
*রঙিন চুলে মেহেদি ব্যবহার করবেন না। এতে কিন্তু আপনার সম্পূর্ণ রংটাই নষ্ট হয়ে যাবে। নিতান্তই প্রয়োজনে রঙিন চুলগুলোকে মুড়ে নিয়ে ক্যাপ লাগিয়ে নিন। পরে বাকি অংশে মেহেদি লাগাতে পারেন।
*বছরে দুইবারের বেশি চুল রং না করানোই ভালো, এমনটাই মনে করেন আফরোজা পারভীন। এতে চুলের কোমলতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
রঙিন কেশগুচ্ছকে নিয়ে এবার আয়নার সামনে দাঁড়ান, দেখুন নিজেকে কতটা ভিন্ন লাগছে! see more 

Info : Prothom-alo

সবজি ঠিকমতো রাঁধছেন তো?

শুধু রান্নার পদ্ধতিতে ভুলের কারণে অনেক সময় সবজির পুষ্টিমান নষ্ট হয়ে যায়। শাকসবজিতে আছে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। আর এসব পুষ্টি উপাদান শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমের জন্য দরকারি। কিন্তু রান্না করতে গিয়ে অজান্তেই আমরা সেগুলো নষ্ট করে ফেলি। জেনে নিন শাকসবজির পুষ্টিমান অটুট রেখে রান্নার উপায়—
* শাকসবজি বেশি কুচি কুচি করে কাটবেন না। আস্ত রাখার চেষ্টা করবেন। সম্ভব হলে খোসাসহ রান্না করুন। খোসার ভেতরের অংশ আলো ও বাতাসের সংস্পর্শে আসে না বলে তাতে পুষ্টিমান বেশি থাকে। ছুরি বা বঁটি দিয়ে খোসা পুরু করে না কেটে ছিলে বা চেঁছে নিলে ভালো। এতে আঁশ পাবেন বেশি।
* সবজি ঢেকে রান্না করলে ভিটামিন সি অনেকখানি রক্ষা পাবে। কাটার পর শাকসবজি পানিতে দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখলে গুণাগুণ অনেকটাই চলে যায়। তাই কেটে বেছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রান্না করে নিন।
* ভিটামিন সি তাপে সংবেদনশীল। তাই বেশি সেদ্ধ করলে নষ্ট হয়ে যায়। কম পানিতে কম তাপে রান্না করা বা ভাপে সেদ্ধ করে খাওয়া সবচেয়ে ভালো।
* রান্না করা সবজি বারবার গরম করলেও খাদ্যগুণ নষ্ট হয়। তাই তাজা খাওয়াই ভালো। রোদে ফেলে রাখলে খাদ্যগুণ ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হতে পারে।
* তামার পাত্রে রান্না করলে ভিটামিন সি একেবারেই থাকে না।
* তেলে ভেজে খাওয়ার চেয়ে রান্না করে খাওয়াই ভালো। তবে একেবারে সেদ্ধ সবজি খাওয়া ভালো নয়। কিছু ভিটামিন আবার তেলে দ্রবণীয়। তাই খানিকটা তেল দিয়ে রান্না করা উচিত।
* নিরামিষ রান্নায় খানিকটা চিনি দিলে ভিটামিন সি রক্ষা পায়। এ কারণে আগেকার দিনে নারীরা নিরামিষে একটু চিনি দিতেন। see more 

Info : Prothom-alo

কোমরে ব্যথা মানেই কিডনির সমস্যা?

কোমরের পেছন দিকে হালকা চিনচিনে ব্যথা—এমন উপসর্গ নিয়ে অনেকে আতঙ্কিত হয়ে ছোটেন চিকিৎসকের কাছে। আমার কিডনি কি খারাপ হয়ে গেল? শুনেছি কিডনির সমস্যায় পেছনে ব্যথা হয়? কোমরব্যথার বেশির ভাগ রোগী মনে করেন, তাঁদের কিডনিতে সমস্যা হয়েছে। কিন্তু সত্যি বলতে কি, কিডনিতে পাথর বা খারাপ ধরনের সংক্রমণ না হলে ব্যথা করার কথা নয়। অপর দিকে কোমরব্যথারও আছে নানা কারণ ও উৎস। বেশির ভাগ কোমরব্যথা সাধারণত মাংসপেশি, মেরুদণ্ডের হাড়, ডিস্ক, সন্ধি ও স্নায়ুসম্পর্কিত। এটি নির্দিষ্ট অংশজুড়ে হয়। মেরুদণ্ডের নড়াচড়া, যেমন ওঠাবসা, সামনে ঝোঁকা, হাঁটা বা দাঁড়ানো, অনেকক্ষণ ধরে কাজ করা বা শুয়ে থাকার সঙ্গে এই ব্যথা বাড়ে-কমে।
এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, কোনো রকম ব্যথা-বেদনা ছাড়াও কিডনি খারাপ হতে পারে। কারণ, কিডনি সমস্যার উপসর্গ সাধারণত দেরিতে দেখা দেয়। তাই যাদের পরিবারে কিডনির অসুখ আছে, তাদের বেশি সচেতন থাকা উচিত। আর সাধারণ কোমরব্যথায় সাধারণত জ্বর হয় না (তবে টিউমার, টিবি ইত্যাদি ছাড়া)। দুর্বলতা, রক্তশূন্যতা, অরুচি, বমির ভাব ইত্যাদি আনুষঙ্গিক সমস্যা সাধারণত থাকে না। বিশ্রাম ও ব্যথানাশক ওষুধ সেবনে ভালো হয়; বন্ধ করলে ব্যথা আবার ফিরে আসে।
কিডনি রোগের উপসর্গ বা ব্যথা
l কিডনিজনিত ব্যথা সাধারণত মেরুদণ্ড থেকে একটু দূরে ডান বা বাম পাশে হয়। এটি পেছনের পাঁজরের নিচের অংশে অনুভূত হওয়ার কথা। এই ব্যথা নড়াচড়া করে এবং কোমরের দুই পাশেও যেতে পারে। এই ব্যথা থেকে থেকে আসে, শোয়া-বসা বা কোনো কিছুতেই আরাম মেলে না।
l কিডনি সমস্যায় ব্যথা মূল উপসর্গ নয়, এতে শরীরে পানি আসা, দুর্বলতা, অরুচি, বমির ভাব দেখা দেয়।
l সংক্রমণ হলে জ্বর হতে পারে এই ব্যথার সঙ্গে।
l প্রস্রাব ঘোলাটে হয়, দুর্গন্ধ বা রক্ত থাকতে পারে।
l প্রস্রাবের পরিমাণ কম-বেশি হয়। রক্তশূন্যতা থাকতে পারে।
কিডনি রোগের ঝুঁকি
দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, সংক্রমণ, ব্যথানাশক বড়ি খাওয়া এবং পরিবারের কারও কিডনি অসুখ হওয়ার ইতিহাস, হার্টের সমস্যা, স্ট্রোক করলে, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান। এসব ঝুঁকির মধ্যে যাঁরা আছেন, তাঁদের উচিত নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শে থাকা।
কিডনি অসুখ কি বিরল এবং শুধু কি বড়দের হয়?
কথাটি একেবারে সঠিক নয়। বরং এটি একটি খুব সাধারণ অসুখ। সব বয়সের হতে পারে। বিভিন্ন মাত্রায় উপসর্গহীনভাবে চলতে থাকে। শেষ অবস্থায় গিয়ে ধরা পড়ে। যখন হয়তো তেমন কিছু করার থাকে না।
কিডনি অসুখ হলেই কি তা জানতে পারি?
না, জানতে না-ও পারতে পারি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক বা মাধ্যমিক মাত্রার অসুখ পর্যন্ত তেমন কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায় না। দেখা যায়, শেষ অবস্থায় ধরা পড়ছে অসুখ।
কিডনি অসুখের ঝুঁকির মধ্যে থাকলে কি আগাম কিছুই করার নেই?
ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও কিডনি অসুখ প্রতিরোধ করার যায়। সচেতন হলেই প্রতিরোধ সম্ভব। কিডনিবান্ধব স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান পরিহার, অতিরিক্ত ব্যথার ওষুধ সেবন পরিহার করলেই ঝুঁকি সত্ত্বেও কিডনি অসুখ প্রতিরোধ সম্ভব।
কিডনি পরীক্ষা কি ব্যয়বহুল?
কিডনি পরীক্ষা মোটেও ব্যয়বহুল নয়। খুব সাধারণ দুটি পরীক্ষার মাধ্যমে অল্প খরচে, অতি সহজে দেশের সবখানেই জানা যেতে পারে কিডনির সর্বশেষ অবস্থা।
পানি বেশি খেলে কি কিডনি ভালো থাকে?
একজন মানুষের পানি কতটুকু খেতে হবে, তা নির্ভর করে তার কাজের ধরন, দেহের আকার, পরিবেশ, আবহাওয়া ইত্যাদির ওপর। পর্যাপ্ত পানি পান কিডনিকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। তবে জানেন কি অতিরিক্ত পানি পান করলে কিন্তু কিডনির ওপর চাপ পড়ে, যা ক্ষতির কারণ হতে পারে। স্বাভাবিক আবহাওয়ায় দৈনন্দিন আট গ্লাস পানি পানই যথেষ্ট। তবে অতিরিক্ত ঘাম হলে পানি খাওয়ার পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে কিডনিতে পাথর হয় না এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে। see more 

Info: Prothom-alo

যে চারটি বিষয় অবশ্যই সন্তানকে শেখাবেন

বড় হয়ে সন্তান যখন সামনে দাঁড়িয়ে উচ্চ স্বরে কথা বলে, তখন অনেক মা-বাবাই অবাক হন। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তাঁদের। ভাবেন, আমার সন্তান কীভাবে এমন ব্যবহার করছে! আপনি হয়তো ভুলে গেছেন, যখন সে ছোট ছিল, সাধারণ আদবকেতাগুলো তাকে শেখানো হয়নি। আপনার পরিবারে যদি কোনো শিশু থাকে, তাকে কিছু সাধারণ ভদ্রতা শেখানো জরুরি। ভবিষ্যতে সন্তানের ভালোর কথা ভেবে চারটি বিষয় অবশ্যই তাকে শেখাবেন।
প্লিজ
অনেকে মনে করেন, কারও কাছ থেকে কোনো কিছু নেওয়ার জন্য বা চাওয়ার জন্য ‘প্লিজ’ বলতে হয়। বিষয়টি ঠিক তেমন নয়। প্লিজ না বলেও আপনি হয়তো কিছু নিতে পারেন। তবে তাতে অনেক সময় বিনয় প্রকাশ পায় না। আদবকেতা বিশেষজ্ঞ সাজিদা রেহমান বলেন, শিশুদের শেখাতে হবে কখন, কোথায় প্লিজ বলতে হবে। বলার সময় গলার স্বর কেমন থাকবে, সেটাও শেখাতে হবে। ‘তোমার খেলনাটি আমাকে দাও‍’—এটা যেমন বলা যায়। তেমনি ‘প্লিজ, তোমার খেলনাটি আমাকে দেবে?’ বললে অন্য রকম শোনাবে। তাতে বিনয় প্রকাশ পাবে।
ধন্যবাদ
কোনো বিষয়ে সৌজন্য প্রকাশ করার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো ধন্যবাদ বলা। এটা সাধারণ ভদ্রতা। ছোট ছোট বিষয়ে ধন্যবাদ বলানোর অভ্যাস করাতে হবে সন্তানকে। পরিবারের মধ্যে, খেলার সঙ্গীদের মধ্যে শিশুকে শেখাতে হবে কীভাবে অন্যকে ধন্যবাদ বলতে হয়।
দুঃখিত
দুঃখিত বললেই কেউ ছোট হয়ে যায় না। কেউ কেউ ভাবেন, দুঃখিত বললে অন্যের কাছে ছোট হয়ে গেলাম। তাই মা-বাবা নিজেরাও বলেন না, সন্তানকেও শেখান না। মা-বাবা ভুল কথা বললে, সঠিক আচরণ না করলে সন্তানকেও দুঃখিত বলতে পারেন। সন্তানও শিখবে।
অনুমতি নেওয়া
খুব কাছের কারও কোনো জিনিস না বলে নেওয়া ঠিক নয়। আবার কথার মধ্যে উঠে যাবে কি না, এমন অনেক ক্ষেত্রে আমরা অনুমতি নিই না। একদম পাঁচ বছর বয়স থেকে সন্তানকে অনুমতি নেওয়া শেখাতে হবে। শিষ্টাচার শিখলে ব্যক্তিজীবন তো বটেই, পেশাগত জীবনেও খুব কাজে আসবে see more

Iifo : Prothom-alo

কেমন হবে স্যামসাংয়ের নতুন ফোন?

স্যামসাংয়ের ‘সবচেয়ে বুদ্ধিমান স্মার্টফোন’ নোট ৭ এর দুর্দশার কথা তো প্রায় সবারই জানা। অনেক ক্রেতাই ফোনটি কিনে আগুন ধরে যাওয়ার অভিযোগ করলে ওই ফোনটি বাতিল করে স্যামসাং। নোট ৭ এর পরে এবার নতুন আরেকটি ফোন আনছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানটি। এটি গ্যালাক্সি এস সিরিজের। এটি হবে ‘এস ৭’ এর পরবর্তী সংস্করণ ‘এস ৮ ’।
নতুন ফোনটি আগামী বছর আসবে বলে নিশ্চিত করেছে স্যামসাং কর্তৃপক্ষ। ফোনটির নানা ফিচার নিয়ে অনলাইনে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।
স্যামসাংয়ের ভাইস চেয়ারম্যান লি জে-ওংয়ের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যালাক্সি এস ৮ আসছে দারুণ নকশা ও উন্নত ক্যামেরার সমন্বয়ে। এতে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত সফটওয়্যার থাকবে। সম্প্রতি অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমান সফটওয়্যার সিরির উদ্যোক্তার তৈরি ভিভ ল্যাবস নামের প্রতিষ্ঠানকে কিনেছে স্যামসাং। ওই প্রতিষ্ঠানের তৈরি সফটওয়্যার এতে থাকতে পারে।
এদিকে স্যামমোবাইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্দিষ্ট কিছু দেশের কথা মাথায় রেখে এস ৮ এর ফার্মওয়্যার তৈরি করছে স্যামসাং। পরবর্তীতে অন্যান্য দেশের জন্য ইউজার ইন্টারফেস তৈরি করা হবে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটগুলোতে গুঞ্জন রয়েছে, স্ক্রিনের মাপ ও রেজুলেশনের ওপর ভিত্তি করে এস ৮ এর দুটি সংস্করণ থাকবে। একটি হবে ৫ দশমিক ১ ইঞ্চি কিউএইচডি ও আরেকটি হবে সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি মাপের ফোরকে মানের সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লের। দুটি স্মার্টফোনের মধ্য কিছু সংস্করণে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৮৩০ ও কিছু সংস্করণে এক্সিনোস ৮৮৯৫ সিপিইউ ব্যবহৃত হবে। সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি মাপের সংস্করণের এস ৮ স্মার্টফোনের পেছনে ১২ ও ১৩ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল ক্যামেরা সেন্সর থাকবে। সামনের ক্যামেরা হবে ৮ মেগাপিক্সেলের। এতে আইরিশ স্ক্যানার থাকবে see more 

Info : Prothom-alo.

ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৭৫ শতাংশই মোবাইল থেকে!

বর্তমানে ইন্টারনেটের সিংহভাগই ব্যবহৃত হচ্ছে মোবাইল ডিভাইস থেকে। আগামী বছর মোবাইল থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা আরও বাড়বে। ২০১৭ সালে মোবাইল থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৭৫ শতাংশে।
ফ্রান্সের মিডিয়া ক্রয় সংস্থা জেনিথ এ পূর্বাভাস দিয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি বছরের চেয়ে আগামী বছরে বিশ্বজুড়ে মোবাইল ফোন ও ট্যাবলেট থেকে ইন্টারনেটের ব্যবহার কিছুটা বেড়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার জেনিথ ‘মোবাইল অ্যাডভারটাইজিং ফোরকাস্ট’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। জেনিথের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৭১ শতাংশই মোবাইল থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। যা আগামী বছর হবে ৭৫ শতাংশ। ২০১৮ সাল নাগাদ ইন্টারনেটের বৈশ্বিক বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত আয়ের ৬০ শতাংশই আসবে মোবাইল বিজ্ঞাপন থেকে। মোবাইল বিজ্ঞাপনে ২০১৮ সালে খরচ দাঁড়াবে এক হাজার ৩৪০ কোটি মার্কিন ডলার যা সংবাদপত্র, সাময়িকী, সিনেমা ও আউটডোর বিজ্ঞাপনের মোট খরচের চেয়েও বেশি। জেনিথের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বৈশ্বিক মোবাইল বিজ্ঞাপনের খরচ ৭১০ কোটি মার্কিন ডলার।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ইন্টারনেট সংযোগসংখ্যা ৬ কোটি ২২ লাখ। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ ৫ কোটি ৮৩ লাখ see more 

Iifo : Prothom-alo